আমার শহর শিলিগুড়িঃ খবরের কাগজ বা টেলিভিশনের পর্দা সর্বত্রই দেখতে পাওয়া যায় মানুষের ভবিষ্যৎ বলে দেওয়া অলৌকিক শক্তির অধিকারী জ্যোতিষীদের। এই বিজ্ঞানের যুগেও সমগ্র দেশজুড়ে এই মহান ব্যক্তিত্বদের দাপটও যথেষ্ট। নিজেরদের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎকে সুনিশ্চিত করতে সমাজের সকল স্তরের মানুষ এনাদের শরনাপন্ন হয়। আর নিজস্ব চেম্বারে বসে থাকা এই জ্যোতিষীগণ তাদের ধোঁয়া-ধোঁয়া কথা বার্তার জালে জড়িয়ে ফেলেন তাদের কাস্টমারকে। আসলে তারা একজন পেশাদার মনোবিজ্ঞানীর মতোই কাস্টমারের দুর্বলতা গুলোকে ধরে ফেলেন আর সেই ভাবেই তাকে চালিত করেন। এরপর শুরু হয় গণণা,তারপর প্রেসক্রিপশন। পথ্যের মধ্যে থাকতে পারে পীত-পোখরাজ,রক্ত-প্রবাল,শ্বেত-প্রবাল, পান্না, হীরা,বিড়ালের নয়ন ইত্যাদি ইত্যাদি।
জ্যোতিষ সম্রাট, জ্যোতিষাচার্য, জ্যোতিষ শিরোমণি, সর্পাচার্য, সর্পকন্যা,দেবাচার্য, ইত্যাদি নিজের তৈরী করা কিছু ভূষণ এর সাথে আবার যুক্ত হয় স্বর্ণপদক প্রাপ্ত বা পি.এইচ.ডি। যা সাধারণ মানুষের চোখে তাদের করে তোলে অতিমানবীয় এবং আকর্ষণীয়।
এবারে আসা যাক মূল প্রসঙ্গে। ভারতের স্বনামধন্য জ্যোতিষীদের অনেকেই নতুন বছরের শুরুতে রাশি অনুযায়ী কোন জাতকের (মানুষের) কেমন কাটবে তা প্রকাশ করেছিল। তাদের সকলকে আনন্দের সাথে জানাই যে সেই সব জ্যোতিষীগণের বেশিরভাগই সু-সংবাদ এবং শুভ খবর দিয়েছিলেন। তাদের মতে কিছু রাশির ক্ষেত্রে বছরের প্রথমদিক খারাপ গেলেও মার্চ থেকে জুন জুলাই প্রায় সকলের জন্যই অত্যন্ত শুভ। জীবন আনন্দে ভরে উঠবে, ধনাগম ঘটবে, ব্যাবসা এবং কর্মক্ষেত্রে সফলতা আসবে,বিদেশ যাত্রার সূযোগ রয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি।
আহা এই না হলে জ্যোতির্বিজ্ঞান ? ওপস্ সরি – জ্যোতিষশাস্ত্র ?
কারন সকল রাশির জাতকগণ (তাদের ভাষায়) সত্যিই এই সময়ে বেশ আনন্দেই আছে, তাদের শুভ সময় চলছে, অর্থাগম ঘটছে, ব্যবসা এবং কর্ম ক্ষেত্রেও চরম উন্নতি ঘটছে, অনেকে আবার বিদেশ যাত্রার পরিবর্তে সোজা উপরে চলে গেছে।
ভবিষ্যৎ যাদের হাতের মুঠোয় তাদের কাছে”করোনা মহামারীর” কোনো আগাম তথ্যই কি জানা ছিল না ? এটা কি করে সম্ভব ?
তাহলে এবার আপনি আপনার সাধারণ বিচার বুদ্ধি দিয়ে একটু চিন্তা করুন। তারা আসলে আপনাদের কি বানাচ্ছে ? আপনার হাতে পৃথিবী গ্রহের দোষটা ধরা পড়লে বোধহয় তারা করোনা মহামারীর আগাম বার্তা দিতে পারতেন। আমরা পৃথিবী গ্রহে বাস করি, যার প্রভাব সবচাইতে বেশী পড়া উচিত। অথচ কোন জ্যোতিষীই বললেন না আপনার হাতে পৃথিবী গ্রহের দোষ রয়েছে তাই এই বছরটা কিন্তু আপনার ভয়ঙ্কর যাবে।