আমার শহর শিলিগুড়িঃ ক্যামেরা,কলম,তুলি,সুর– সব মিলিয়ে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব, যাকে বলা হয় বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিত্র পরিচালক। যার সৃষ্ট ছবি গুলো আজও বাঙালীর মনের আস্বাদকে পরিতৃপ্ত করে চলেছে। তিনিই হলেন অস্কার জয়ী বাঙালী চিত্র পরিচালক ভারতরত্ন সত্যজিৎ রায়।
তাঁর ছবির চিত্রনাট্য থেকে শুরু করে ক্যামেরা, সুর এমনকি ছবির প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় সবকিছুই তিনি প্রায় একা হাতেই সামলাতেন। সমাজের বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবির প্রতিফলন তার প্রতিটি ছবিতে সুস্পষ্ট ভাবে ধরা পড়েছে। সাধারণ বিষয় গুলো তাঁর ছবিতে ফুটে উঠেছে অসাধারণ ভাবে। আর তাঁর এই প্রতিভাই তাকে এনে দিয়েছে অস্কারের মতো শ্রেষ্ঠ সন্মান।
পথের পাচালী, অপরাজিত এবং অপুর সংসার – –এই তিন মিলে অপু-ত্রয়ী তার চলচ্চিত্র জীবনের অন্যতম উপহার।
তিনি মোট ৩৬ টি ছবির পরিচালনা করেন। এর মধ্যে ২৯ টি কাহিনী চিত্র,পাঁচটি তথ্যচিত্র এবং দুটি স্বল্প দৈর্ঘের ছবি।
পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ থেকে শুরু করে ভারতরত্ন এবং অস্কার সহ অসংখ্য জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সন্মানে তিনি সন্মানিত হয়েছিলেন।এছাড়া বাংলা সাহিত্যের সবচাইতে দুটি জনপ্রিয় চরিত্র”ফেলুদা”এবং”প্রোফেসর শঙ্কু”-তাঁরই অমর সৃষ্টি।

তার ছবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য —
পরশপাথর, জলসাঘর, দেবী, তিনকন্যা,অভিযান, মহানগর, চারুলতা, নায়ক, গুপী গাইন বাঘা বাইন,অরন্যের দিনরাত্রি,প্রতিদ্বন্দ্বী, সীমাবদ্ধ, সোনার কেল্লা, হীরক রাজার দেশে,অশনি সংকেত, ঘরে বাইরে, গণশত্রু,শাখা- প্রশাখা, আগন্তুক —- যা শুধু বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে মূল্যবান সম্পদই নয়, এই ছবি গুলো বাঙালী আত্মা এবং আবেগের সাথে জড়িত।
কেবল বাংলায় নয় সমগ্র ভারতবর্ষে দ্বিতীয়বার হয়তো এমন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ব্যক্তিত্ব জন্ম নেবেন না। আজ তাঁর জন্ম শতবর্ষে আমরা তাঁকে জানাই অন্তরের শ্রদ্ধাঞ্জলী ।