আমার শহর শিলিগুড়িঃ “মদ’ – হয়তো সরকারের চোখে অত্যাবশ্যক পণ্য,তাই অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর সাথে সাথে এই বস্তুটিকেও জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো। কি অদ্ভুত দেশে আমাদের বাস, করোনা মহামারী থামাতে”লকডাউন।” সামাজিক দূরত্ব মেনে চলবার জন্য প্রশাসনের কড়াকড়ি। কিন্তু দেশ জুড়ে এই মুহূর্তে মদের দোকান গুলো খুলে দেওয়ায় পর যে চিত্র আমাদের সামনে ফুটে উঠলো তা যতটা অবাক করবার ততটাই চিন্তার। দেশের অর্থনৈতিক দূরাবস্থাকে স্থিতিশীল করবার জন্য সরকারের কি আর কোন বিকল্প ব্যবস্থা ছিল না ? যদিও এসব বলে লাভ নেই, কারন টেলিভিশন থেকে শুরু করে খবরের কাগজ সর্বত্র আমারা একটি বিজ্ঞাপন দেখতে পাই। আর তা হল – “মদ্যপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।” আবার সরকার নিজেই এর লাইসেন্স বা ছাড়পত্র প্রদান করছে। কি অদ্ভুত লীলা !

দীর্ঘদিন ধরে লকডাউনের কারনে মানুষ আর্থিক দিক থেকে অনেকটাই দূর্বল হয়ে পড়েছে। প্রচুর সাধারণ মানুষ তার ক্রয়ক্ষমতা হাড়িয়েছে। অথচ অবাক করবার বিষয় মদের দোকানে লম্বা লাইন এবং সেই সাথে ভীড় উপচে পড়বার মতো। এর অর্থ এই দাঁড়ায় না যে লাইনে দাঁড়ানো এই মানুষগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থা মোটেই খারাপ নয়। উল্লেখ্য লাইনে দাঁড়ানো এই মানুষগুলোর বেশ কিছু অংশই কিন্তু আবার লকডাউনে তাদের আর্থিক সঙ্কটের কথা তুলে ধরে সরকারী সাহায্য এবং অনুদানের দাবী জানাচ্ছে।

তাই যত ভাবা যাবে ততই গোল গোল ঘুরতে থাকবো আমরা। সুতরাং সরকার কি ভেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে,আর কেনই বা নিয়েছে সে সবকিছু ভুলে গিয়ে আসুন আমরা সকলে মিলে মদ কিনি, মদ খাই সাথে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়তা করি। মাতাল হয়ে থাকলে এসব চিন্তা অন্তত ভুলে থাকা যাবে — তাই না ?