আমার শহর শিলিগুড়িঃ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নতুন ঘোষনা। এবার থেকে দেশের সাধারণ মানুষও তিন বছরের জন্য সেনাবাহিনীতে কাজ করার সুযোগ পাবেন। অফিসার-সহ বিভিন্ন পদমর্যাদায় কাজ করার সুযোগ পাবেন তাঁরা। শুধুমাত্র সাধারণ মানুষ নন, আধাসেনা ও কেন্দ্রীয় বাহিনী থেকেও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের ভারতীয় সেনায় যুক্ত করার চিন্তাভাবনা চলছে।
জানা গিয়েছে, নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার আগে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন ভারতীয় সেনা, নৌবাহিনী ও বায়ুসেনা প্রধানরা। তবে আলোচনা চলছে এবং খুব শীঘ্রই তা ঘোষণা করা হবে। এই সিদ্ধান্তের প্রধান উদ্দেশ্য হল মানুষের মধ্যে জাতীয়তাবোধ ও দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলা। সেইসাথে ১৩ লক্ষ সেনার জীবন সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি ওয়াকিবহাল করে তোলা।
ভারতীয় সেনার মুখপাত্র কর্নেল অমন আনন্দ বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, “সাধারণ মানুষকে সেনাতে যোগদান করানোর এই পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রাথমিকভাবে ১০০ অফিসার ও ১০০০ কর্মীকে নিয়োগ করার কথা ভাবা হচ্ছে। এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্যুর অফ ডিউটি’ বা ‘থ্রি ইয়ার্স শর্ট সার্ভিস’। ভারতের যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে অনেকেই এমন আছেন, যাঁরা সেনা হিসেবে নিজের কেরিয়ার না গড়তে চাইলেও আর্মির জীবন উপযোগ করে দেখতে চান। তাঁদের জন্য এটা একটা দূরন্ত সুযোগ।”
ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে – এই পদক্ষেপ নেওয়া হলে ভারতীয় সেনা আর্থিকভাবেও লাভবান হবে। কারণ বর্তমানে ১০ থেকে ১৪ বছরের জন্য জওয়ানদের ভর্তি করা হয় সেনায়। কিন্তু তিন বছরের জন্য কাউকে ভর্তি করা মানে তার কাজের সময় অনেকটা কম। ফলে গ্রাচুইটি, পেনশন ও অন্যান্য প্যাকেজ তিনি পাবেন না। তার জন্য অনেক কম খরচ হবে সেনাবাহিনীর। খরচ কতটা কম হতে পারে, তা নিয়ে একটা তুলনামূলক আলোচনা করেও দেখা হয়েছে, সূত্রের খবর, এই মুহূর্তে একজন জওয়ান প্রশিক্ষণ নিয়ে ভর্তি হওয়ার পর ১৪ বছর পরে তাঁর অবসরের মাঝে প্রায় ৫.১২ কোটি টাকা খরচ হয় তাঁর পিছনে। যদি কোনও অফিসার র‍্যাঙ্কের জওয়ান হন, তাহলে খরচ হয় ৬.৮৩ কোটি টাকা। কিন্তু সেখানে একজন তিন বছরের জন্য যুক্ত হলে তাঁর উপর ৮০ থেকে ৮৫ লক্ষ টাকা খরচ হবে।

সেনাতে যোগ দেওয়া যুব সম্প্রদায়ের জন্যও এটা বড় সুযোগ। কারণ এক বছরের প্রশিক্ষণ ও তিন বছরের কাজের পরে একটা ভাল চাকরি পাওয়ার সুযোগ অনেক বেড়ে যাবে তাঁদের কাছে। এই সময়ের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক ক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস, নিয়মানুবর্তিতা এবং চাপ সামলানোর মতো অনেক গুণ তাঁদের মধ্যে গড়ে উঠবে। ফলে বড় কোম্পানিগুলোতেও তাঁদের কাজের সুযোগ বাড়বে। এই পদক্ষেপে একদিকে যেমন সেনাবাহিনী লাভবান হবে অন্যদিকে সাধারণ যুব সমাজও উপকৃত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।