আমার শহর শিলিগুড়িঃ করোনা ভাইরাসের উৎসস্থল যে চিন, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে অনেক আগেই। সেইসাথে করোনা নিয়ে চিন প্রতিনিয়ত মিথ্যা বলে চলেছে সেবিষয়েও অভিযোগ তুলেছে বিশ্বের অনেক তাবড় তাবড় দেশ। এবারে সমানে এল আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
প্রকাশ্যে করোনা আক্রান্তের যে সংখ্যা চিন দাবি করেছে, আসলে তার থেকে অনেক অনেক বেশি করোনা আক্রান্ত হয়েছে ওই দেশে। এমনটাই তথ্য জানা গেছে। প্রকাশ হয়ে যাওয়া একটি ডেটা বেস থেকে জানা গিয়েছে যে কয়েক লক্ষ আক্রান্তের সংখ্যা লুকিয়েছে চিন।
“ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ ডিফেন্স টেকনোলজি” থেকে লিক হয়ে যাওয়া এক তথ্য অনুযায়ী, চিনে অন্তত ৬ লক্ষ ৪০ হাজার আক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু চিন দাবি করেছে আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ৮২,৯৪১। যা এই মুহূর্তে ভারতবর্ষের থেকেও কম।
ফরেন পলিসি’ ও ‘হানড্রেড রিপোর্টারস’ নামে দুটি সংস্থার কাছে চলে এসেছে সেই লুকোনো তথ্য। আর সেখানেই রয়েছে এক ডেটাবেস। যে ডেটাবেসে চিনের ২৩০টি শহরের ৬ লক্ষ ৪০ হাজার মানুষের করোনা এন্ট্রি রয়েছে। তাদের প্রত্যেকের ল্যাটিটিউড, লংগিটিউড উল্লেখ করা আছে। দিন ক্ষণ ধরে তাদের ‘কনমার্ফড’ কেসও উল্লেখ করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে হয়েছে এইসব এন্ট্রি।
যেসব লোকেশনের এন্ট্রি রয়েছে, তার মধ্যে হাসপাতাল ছাড়াও রয়েছে হোটেল, সুপার মার্কেট, রেস্তোরাঁ, রেল স্টেশন, স্কুল ইত্যাদি। এমনকি কেএফসি-র ব্রাঞ্চেরও উল্লেখ রয়েছে সেখানে। প্রত্যেকটা এন্ট্রি যদি একেকটা পজিটিভ কেস হয়, তাহলে তার সংখ্যা দাঁড়ায় ৬ লক্ষ ৪০ হাজার।
তবে ওই ডেটাতে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। তাই, এতগুলি কেসের বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছে না ‘ফরেন পলিসি’ বা ‘হানড্রেড রিপোর্টারস’ নামের ওই দুই সংস্থা। তবে ওই ডেটা বেস কোথাও প্রকাশ করেনি ওই দুই সংস্থা। যদিও সংখ্যাটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, তবে চিনের বিরুদ্ধে যে নতুন করে সন্দেহ বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার চিনকে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটিদের উহানের ল্যাবরেটরিতে গিয়ে করোনা ভাইরাসের উৎস সম্পর্কে তদন্তের অনুমতি দিতে। তবে তা নিয়ে রয়েছে ধন্ধ।
ট্রাম্প জানিয়েছে, “আমরা যেতে চাইলেই তাঁরা মুখের ওপর না করে দিয়েছে। কারণ চিন জানে তাঁরা কি করছে। তারা বিশ্ববাসীর কাছে নিজেদের নির্দোষ প্রমান করবার চেষ্টা করছে।”
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই জানিয়েছিলেন, যেহেতু চিনের উহান থেকে করোনা সংক্রমণ শুরু হয়েছে, তাই চিনের থেকে ক্ষতিপূরণ চাইতে পারে আমেরিকা। তবে তা কি হবে সে বিষয়ে কিছু জানাননি।

যাইহোক চিন যে তথ্য লুকোচ্ছে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। কারন যে দেশে এই ভাইরাসের সুত্রপাত সেই দেশেই হঠাৎ করে ভাইরাসের সংক্রমণ আশ্চর্যজনক ভাবে কমে গেল অথচ আমেরিকা সহ বিশ্বের শক্তিশালী দেশ গুলোত্র এর সংক্রমণ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। এটা কিভাবে সম্ভব?