“মাহপারা তাসনীম ও মাশরুর তাহমিন” সম্পর্কে এরা দুইজন নিজের ভাই বোন। দুজনেই আক্রান্ত হয়েছিলেন করোনায়। বর্তমানে দুজনেই সুস্থ। আর সুস্থ হওয়ার পরপরই জানতে পারলেন যে তাদের শরীরের প্লাজমা দিলে অন্য করোনা রোগী ভালো হয়ে যাবে। এমন খবর শুনে আর দ্বিতীয়বার চিন্তা করেন নি তাঁরা। সাথে সাথে প্লাজমা দিতে রাজি হয়ে যান দুজনেই। তাঁরা অপর দুজন করোনায় আক্রান্তকে প্লাজমা প্রদান করেন এবং সেই দুজনও এখন সুস্থ হওয়ার পথে।

আসুন জেনে নি প্লাজমা সম্পর্কেঃ

রক্তের জলীয় অংশকে বলে প্লাজমা। কোনো ব্যক্তি ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হলে ৫ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে তার শরীরে জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে। ফলে তার রক্তে এক ধরনের অ্যান্টিবডি তৈরি হয় যা ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াকে নিষ্ক্রিয় করে তোলে এবং এর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। করোনা আক্রান্ত থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাওয়া ব্যক্তির রক্তের প্লাজমায় এই অ্যান্টিবডি থাকে, যা সংগ্রহ করে কোভিড আক্রান্ত রোগীর শরীরে দিলে সাময়িক ভাবে প্যাসিভ ইমিউনিটি তৈরি হয়। এই অ্যান্টিবডি করোনা-২ ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে এবং রোগী সুস্থ হতে থাকে।’
তাই এই প্লাজমা থেরাপি খুবই কার্যকরী একটি পদক্ষেপ। এতে প্লাজমা দানকারীর বিন্দুমাত্র ক্ষতি হয় না। শুধু প্রয়োজন একটু সদিচ্ছার। তাই যারা বয়সে তরুন এবং করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়েছেন, তারা দয়া করে এগিয়ে আসলে খুব সহজেই আরো একজন করোনা রোগীকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব। নিজের প্লাজমা দান করে আরেকজনকে সুস্থ করে তুলবার অনুভূতি নিঃসন্দেহে সুন্দর। এর চেয়ে ভালো অনুভূতি আর নেই। যা আমাদের দেখিয়ে দিল এই দুই ভাই বোন। স্যালুট তোমাদের – “মাহপারা তাসনীম ও মাশরুর তাহমিন।