আমার শহর শিলিগুড়িঃ শিক্ষামন্ত্রী শ্রীপার্থ চট্টোপাধ্যায় কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর পঠন-পাঠন এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর উপর ছেড়ে দিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই উত্তরবঙ্গের উচ্চশিক্ষার সকল ছাত্র-ছাত্রী এখন বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর দিকে তাকিয়ে। এখন প্রশ্ন এই করোনা সঙ্কটে তারা কিভাবে এবং কোন পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেবে ? উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কলেজগুলোর সকল ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে এই প্রশ্নই দানা বাঁধছে। ছাত্র-ছাত্রীদের একাংশ পরীক্ষা বাতিলের দাবীও জানিয়েছেন। এক্ষেত্রে তাদের যুক্তি গুলো যথেষ্ট তাৎপর্যপুর্ন। বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের কাছে তাদের কিছু প্রশ্ন আমরা তুলে ধরছি –

⚫ সেপ্টেম্বরে নতুন বর্ষ শুরু হবার আগেই পরীক্ষা শেষ করতে হবে। সেক্ষেত্রে হাতে সময় প্রায় নেই। এই অবস্থায় হঠাৎ যে কোন দিন পরীক্ষার দিন ঘোষনা হলে ছাত্র ছাত্রীরা মানসিকভাবে অপ্রস্তুত থাকবে।
⚫ এতদিন ধরে ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের নির্দিষ্ট সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্ন তৈরী করে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। এই অবস্থায় শোনা যাচ্ছে তাদের MCQ টাইপের প্রশ্নপত্র হতে পারে। আর এর জন্য তাদের যে প্রস্তুতির প্রয়োজন তার জন্য তারা সময় পাবে না।
⚫ এবারে সবচাইতে বড় ভয় হলো যদি পরীক্ষা জুলাই বা আগস্ট মাসে নেওয়া হয় তবে সেক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা থাকবে। তা যতই প্রতিরোধ মুলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক না কেন। কারন পরীক্ষা কেন্দ্রে তারা পরীক্ষা এবং তার প্রশ্ন নিয়ে চিন্তায় থাকবে। সেক্ষেত্রে পরীক্ষার চিন্তায় অসতর্কতার কারনে সাবধানতা অবলম্বন করা সম্ভব নাও হতে পারে। তাছাড়া করোনা সংক্রমণে এখন কোন উপসর্গ দেখা যাচ্ছে না। আর একটি কলেজে দূর দূরান্ত থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা পরীক্ষা দিতে আসবে। সেক্ষেত্রে করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকবে।
⚫ বিভিন্ন কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা কলেজের আশে পাশেই অনেকে বাড়ি ভাড়া নিয়ে কলেজে পড়ছে। যারা এই মুহূর্তে নিজের বাড়িতে চলে গেছে। পরীক্ষার সময় তাদের পুনরায় ভাড়া বাড়িতে ফিরে আসতে হবে। কিন্তু সমস্যা হলো তাদের বাড়ির মালিকই তো তাদের বাড়িতে প্রবেশের অনুমতি দেবে না। এক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান করা হবে কি ভাবে?
⚫ বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অনলাইন পরীক্ষা নেওয়াতেও সমস্যা রয়েছে। কারন সরকারী কলেজ গুলোর ছাত্র-ছাত্রীদের অনেকেরই অনলাইন পরীক্ষার প্রযুক্তিগত ধারনা নেই। ফলে তারা সমস্যায় পড়বে।

এই বিষয়গুলো তুলে ধরে সমগ্র উত্তরবঙ্গের কলেজ গুলোর ছাত্র-ছাত্রীরা একত্রিত হয়ে ইতিমধ্যে “Against Exam” নামে ফেসবুক গ্রুপও তৈরী করেছেন। অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী সেখানে সম্পুর্নভাবে পরীক্ষা বাতিলের আবেদন করেছেন। তাঁরা বলেছেন যে তাঁরা পরীক্ষার বিরুদ্ধে নয়। তবে ক্রমাগত বেড়ে চলা এই করোনা সংক্রমণের মাঝে তাঁরা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষা দিতে চায় না। শিক্ষা মানুষের জীবনের চাইতে বড় নয়। বেঁচে থাকলে তাঁরা পরীক্ষা দিতে পারবে। তাই এই মুহূর্তে পরীক্ষা বাতিল করা হোক। লিঙ্ক নীচে দেওয়া হলো।

https://www.facebook.com/groups/622779348448870/?ref=share

https://www.facebook.com/groups/738077596999733/?ref=share