কিডনির কাজ হলো আমাদের শরীরের রক্তকে পরিশ্রুত করা। শরীরের দুটো কিডনিই বিকল হয়ে গেলে আমাদের ক্রিয়েটিনিন লেভেল অনেক উপরে উঠে যায়। সেই সাথে শরীরের সমস্ত উপাদান গুলো তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। এককথায় শরীরের সমস্ত রক্ত বিষাক্ত হয়ে যায়। আর ঠিক সেই মুহূর্তে রোগীকে বাঁচানোর জন্য প্রয়োজন হয়ে পড়ে ডায়ালিসিস এর। যদিও কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করবার পর এই ডায়ালিসিস এর আর প্রয়োজন হয় না। কিন্তু যতদিন কিডনি প্রতিস্থাপন না হয় ততদিন রোগীকে বাঁচিয়ে রাখতে এই ডায়ালিসিস আবশ্যক। কিন্তু এই ডায়ালিসিস যথেষ্ট ব্যয়বহুল। যার ব্যয় বহন করা দরিদ্রদের ক্ষেত্রে প্রায় অসম্ভব। কারন এটি নিয়ম করে সপ্তাহে দুইবার বা তিন বার করতে হয়।
অবিশ্বাস্য ভাবে সাহায্যের হাত নিয়ে গরীব কিডনি রোগীদের পাশে এসে দাড়ালেন ডাঃ ফুয়াদ হালিম। বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে তিনি নিজের কিড স্ট্রিটের বাড়ির পাশেই গরীবদের জন্য গড়ে তোলেন হাসপাতাল। ২০০৮ সালে এই হাসপাতালের পথ চলা শুরু। লকডাউনের আগে পর্যন্ত মাত্র ৩৫০ টাকায় ডায়ালিসিস হত এই হাসপাতালে। কিন্তু লকডাউন ঘোষণা হতেই তিনি ভাবেন, যাতায়াতের তেমন সুযোগ সুবিধা এখন নেই মানুষের। যেতে আসতেই চলে যাবে অনেক টাকা। শেষপর্যন্ত তিনি সিদ্ধান্ত নেন কমানো হবে ডায়ালিসিসের খরচ। যেমন ভাবা-তেমনি কাজ। লকডাউনের দ্বিতীয় দিন থেকেই তার হাসপাতালে ডায়ালিসিস করা হচ্ছে মাত্র ৫০ টাকায়। এতে যে কত গরিব মানুষের সুবিধা হয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। লকডাউনের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত ডাঃ ফুয়াদ হালিমের হাসপাতালে ৫০ টাকায় ডায়ালিসিস হয়েছে মোট ১৬৪৩ বার। তাঁর হাসপাতালের নাম ‘স্বাস্থ্য সংকল্প’। বেসরকারি হাসপাতালের মতো সাজগোজ না থাকলেও চিকিৎসার সঙ্গে কোনও আপোস কখনই করা হয়নি এই হাসপাতালে। গরিব মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সংকল্প নিয়ে কাজ করে চলেছে এই ‘স্বাস্থ্য সংকল্প’। করোনা পরিস্থিতিতে যখন অন্যান্য রোগের চিকিৎসা নিয়ে মানুষ দিশেহারা, তখনও ফুয়াদের হাসপাতালের দরজা কিন্তু খোলা রয়েছে সব সময়ের জন্যে। একমাত্র কিডনি রোগীরাই অনুভব করতে পারবে তিনি কতবড় মহৎ কাজ কছেন। স্যালুট স্যার আপনাকে।