আজ মানুষ তাঁর আচরণে বুঝিয়ে দিচ্ছে সে হারিয়েছে তার মনুষ্যত্ব। অবলা পশুকে হত্যার এমন নিশৃংস ঘটনায় আমরা হারিয়েছি ভাষা। ধিক্কার জানাই।

সাংবাদিকদের দেওয়া স্থানীয় ফরেস্ট অফিসারের বিবৃতিঃ

” চিকিৎসক যখন হাতিটির ময়নাতদন্ত করেন তখন তিনি বলেন যে হাতিটি ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। কাঁপা গলায় তিনি আরও জানান যে হাতিটির মধ্যে একটা সেন্স কাজ করেছিল। সে জানতো তার মৃত্যু আসন্ন। শুঁড় সহ গোটা শরীর রক্তময়, যন্ত্রণায় জ্বলছিল তার সারা দেহ। এই অবস্থায় সে তার সন্তানের কথা ভেবে চলে যায় নদীর মাঝে জলের মধ্যে যাতে সেই রক্তাক্ত জায়গায় পোকা-মাকড় না বসে। যতক্ষণ প্রাণ ছিল সে চেষ্টা করেছিল যাতে তার সন্তানের কষ্ট একটু হলেও কম হয়।
আর শেষ অবধি সে ওই মাঝ নদীতেই প্রাণ ত্যাগ করে। ”

কেরলের সাইলেন্ট ভ্যালী ন্যাশনাল পার্ক এর একটি ১৫ বছরের অন্তঃসত্ত্বা হাতি মালাপ্পুরম এর একটি গ্রামের কাছে চলে আসে খাবারের সন্ধানে। সেখানে গ্রামবাসীরা তাকে একটা আনারস খেতে দেয় । অবলা প্রাণী না বুঝে তা খেয়েও নেয়। সে জানতো না, তাকে দেওয়া হয়েছে বারুদভর্তি আনারস। খাওয়া মাত্রই বাজি গুলো তার মুখে ফেটে যায় এবং রক্তাক্ত হয়ে ওঠে সারা মুখ।

তবুও হাতিটি নিজের সন্তানের কথা ভেবে রক্তাক্ত শরীর নিয়েই ছুটে বেড়ায় সারা গ্রাম একটু খাবারের খোঁজে। শেষ অবধি সে খাবার পায়নি।তবে আঘাতও করেনি কোনো গ্রামবাসীকে, ভাঙেনি কোনো ঘর। সোজা চলে আসে মাঝ নদীতে এবং চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত। বহু চেষ্টাতেও তাকে সরানো যায়নি সেখান থেকে।

বিবৃতিঃ ফরেস্ট অফিসার মোহন

খুব শীঘ্রই কোন ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে এই অসহায় অবলা নিরীহ পশুদের অবস্থা আরও সঙ্কটজনক হতে পারে।

পোস্টটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন।

দোষীরা যেন কঠোর শাস্তি পায়।