দেশের রিয়েল হিরো রেলওয়ে পুলিশকর্মী “ইন্দর যাদব” চলন্ত ট্রেনের সঙ্গে ছুটে শিশুর জন্য দুধ পৌঁছে দিয়ে রাতারাতি খবরের শিরোনামে।

যেমনটি আমরা সিনেমায় দেখি ঠিক তেমন দৃশ্যই ধরা পড়েছে ভোপাল স্টেশনের সিসিটিভি ক্যামেরায়। যা সকলের হৃদয় জয় করে নিয়েছে। ভোপাল রেল স্টেশনে সদ্যোজাত শিশুর দুধের বন্দোবস্ত করে দিলেন এক রেলপুলিশ। কিন্তু এই দুধের বন্দোবস্ত করতে রীতিমতো চলন্ত ট্রেনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌড়তে হয়েছে ওই পুলিশ কর্মীকে (রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স)। সদ্যোজাতের মা শাফিয়া হাশমি প্ল্যাটফর্মে ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকার সময় কর্তব্যরত রেলপুলিশ ইন্দর যাদবকে বলেন, বাচ্চাকে খাওয়ানোর দুধ শেষ হয়ে গিয়েছে। ট্রেনটি সেই সময় ভোপাল স্টেশনে দাঁড়িয়েছিল। যাচ্ছিল উত্তর প্রদেশের গোরখপুরে। ইন্দর যাদব বুঝতে পারেন, ট্রেন ছাড়তে আর কয়েক মিনিট বাকি। কিন্তু তাও শেষ চেষ্টা করতে তিনি পিছপা হননি। দৌড়ে গিয়ে বাচ্চাটির জন্য দুধ কিনে প্ল্যাটফর্মে ঢুকে পড়েন তিনি। যদিও ততক্ষণে প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে ট্রেন বের হতে শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু থেমে থাকেননি কর্তব্যরত এই পুলিশকর্মী। তিনিও প্ল্যাটফর্ম বরাবর দৌড় শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত ওই কোচের সামনে পৌঁছে গিয়ে বাচ্চার মায়ের হাতে দুধের বোতল তুলে দিয়েছেন তিনি। শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেনে ফিরতি ওই পরিযায়ী মা পরে ভিডিয়ো করে ইন্দর যাদবের প্রশংসা করেছেন। তাঁকে সত্যিকারের হিরো বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। জানা যায়, দুধের অভাবে বিস্কুট আর জল গুলিয়ে বাচ্চাকে খাওয়াচ্ছিলেন মা শাফিয়া। অবশেষে ইন্দরের সহযোগিতায় সেই সমস্যার সমাধান হয়। রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলও এই ঘটনার প্রশংসা করেছেন। দেশ জুড়ে ট্যুইটারেও ইন্দর যাদবের প্রশংসা শুরু করেছেন সকলে। ইন্দর একজন দক্ষ পুলিশকর্মী এবং তাঁকে দেখে অনুপ্রেরণা পাবেন দেশের মানুষ। রেল মন্ত্রী ঘোষণা করেন শীঘ্রই ইন্দর যাদবকে পুরস্কারে ভূষিত করা হবে।