চুল ঝরে যাওয়া বা টাক পড়ে যাওয়া এই সমস্যা প্রায় সব বয়সের মানুষের মধ্যেই দেখা যায়। আর এ নিয়ে বেশি চিন্তায় পড়েছেন অল্প বয়সী ছেলে মেয়েরা। যদিও মাথায় চুল কম থাকাটা এখন যে কোনও বয়সের মানুষের ক্ষেত্রেই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চিন্তার কারন, গবেষণায় বলছে যাঁদের মাথায় চুল কম বা টাক, তাঁদের করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি! অন্তত এমনটাই দাবি করেছেন একদল গবেষক।
সাম্প্রতিক কালে একদল মার্কিন গবেষক জানিয়েছেন, যাঁদের মাথায় চুল কম, তাঁদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই বেশি! এই নতুন করোনা আশঙ্কার নাম দেওয়া হয়েছে ‘গ্যাব্রিন সাইন’। জানা গিয়েছে, সম্প্রতি করোনা আক্রান্ত হয়ে এক মার্কিন চিকিৎসক ডঃ ফ্র্যাঙ্ক গ্যাব্রিনের মৃত্যুর পরেই এই নতুন করোনা আশঙ্কার নাম দেওয়া হয়েছে ‘গ্যাব্রিন সাইন’। বলা বাহুল্য, গ্যাব্রিনের মাথাতেও টাক ছিল।
সম্প্রতি ‘আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব ডারামাটোলজি’ নামের পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে অধ্যাপক ওয়াম্বিয়ার জানান, স্পেনের মাদ্রিদের তিনটি হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত ১২২ জন রোগীর মধ্যে ৭৯ শতাংশ পুরুষের মাথাতেই চুল নেই বা খুব কম রয়েছে। গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, যাঁদের চুল কম, তাঁদের শরীরেই ভাইরাসের সংক্রমণ অন্যান্য রোগীদের তুলনায় অনেক বেশি দেখা গিয়েছে। মার্কিন গবেষকরা জানান, পুরুষদের চুল ঝরে পড়ার ক্ষেত্রে তাদের শরীর থেকে নিঃসৃত এন্ড্রোজেন হরমোনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের দাবি, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের তীব্রতা অনেক বাড়িয়ে দেয় এই এন্ড্রোজেন হরমোন।
যদিও ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় এই তত্ত্ব মেনে নিতে নারাজ। তাদের একদল বিজ্ঞানী মনে করেন এই সমীক্ষার রিপোর্ট অসম্পূর্ণ। কারণ, এই রিপোর্টে রোগীদের বয়সের কোনও উল্লেখ নেই। তার উপর ৫০ থেকে ৭০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে করোনার ঝুঁকি এমনিতেই বেশি। তাই এ ক্ষেত্রে ঠিক কোন বয়সের আক্রান্তদের কথা বলা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। তাছাড়া, এন্ড্রোজেন হরমোন যে করোনা সংক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয়, তার কোনও সরাসরি তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেননি গবেষকরা। তাই তাঁদের তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।