তসলিমা নাসরিন বরাবরই একজন যুক্তিবাদী লেখিকা। স্বাভাবিকভাবেই পশ্চিমবঙ্গ, আসাম এবং বিহার সহ রাজ্যের একাধিক এলাকায় করোনা পূজা নিয়ে তিনি তার মতামত ব্যক্ত করলেন ফেসবুকে।

তিনি বলেন “উত্তর পূর্ব ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে করোনা পূজা হচ্ছে। সেখানে করোনাভাইরাসকে দেবী মনে করে পুজো চলছে। ন’টা লাড্ডু, ন’টা লবংগ, ন’টা ফুল দেবীকে দেওয়া হয়। এগুলো পরে গর্তে ফেলে পুজোর কাজ শেষ হয়। একজন বলেছেন, স্বপ্নে এই পুজো করার আদেশ এসেছে। বেশ, ভালো কথা, আদেশ মানা হয়েছে। এই পুজোটা কিন্তু সংক্রামক। বিহারের কোথাও হচ্ছে বলে শিলিগুড়িতে হলো, শিলিগুড়িতে হলো বলে কলকাতায় হলো, কলকাতায় হলো বলে গৌহাটিতে হলো। কেউ পিছিয়ে থাকতে চাইছে না। আমি এই পুজোর খবর পেয়ে মোটেও অবাক হইনি। এর চেয়ে আরো ভয়ংকর কুসংস্কার আমি দেখেছি। এ পুজো তো অশিক্ষিত অল্প- শিক্ষিত নিরীহ মহিলারা করছে। আমরা কি লেখাপড়া জানা ভদ্রলোকদের করোনা থেকে বাঁচতে গোমূত্র পান করতে দেখিনি, সারা গায়ে গোবর লেপে বসে থাকতে দেখিনি? আমরা বড় বড় তারকা, বড় বড় রাজনীতিক, বড় বড় ধনকুবেরদের কি মানুষ ঠকানোর ব্যবসায়ী গুরুদের পায়ে মাথা ঠেকাতে দেখিনি! আমরা কি রকেট ছাড়ার আগে নারকেল ভাঙতে বা মন্দিরে মিনিয়েচার রকেট নিয়ে বিজ্ঞানীদের পুজোয় বসতে দেখিনি? কিছু মূর্খ মহিলা যারা বিজ্ঞান মনস্ক হওয়ার কোনরকম সুযোগ পায়নি জীবনে,তারা করোনা পুজো করেছে, বিজ্ঞান জানা ভদ্রলোকদের কুসংস্কারের তুলনায় এ কিছুই নয়।”

তার এই বক্তব্য যথেষ্ট যুক্তি যুক্ত। কারন আমরা শিক্ষিতরাই এখন পর্যন্ত কুসংস্কারের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত হতে পারিনি। সেক্ষেত্রে গ্রামের সহজ সরল মানুষরা করোনা পূজায় মত্ত হলে তাতে অবাক হবার কিছু নেই।