নাম উত্তমকুমারন, পেশায় আইনজীবী। যদিও গরীব ঘরের সন্তান। তাঁর পরিবারে তিনিই প্রথম স্নাতক ব্যক্তি। আইনজীবী হওয়ার জন্য রাত জেগে লন্ঠনের আলোয় পড়াশোনাও করেছেন। সেই সাথে স্বপ্ন দেখতেন একজন নামকরা আইনজীবী হবেন। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়াল করোনা। লকডাউনের কারনে বাধ্য হয়ে সব ছেড়ে ফিরতে হল বাঁশের ঝুড়ি বোনার কাজে। মালাই কুরুভার সম্প্রদায়ের এই বাসিন্দা নিজের তাগিদেই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন ছোটবেলা থেকেই। ২০১০ সালে তিনি স্নাতক হন। এরপর ওকালতি পড়া শেষ করে পাট্টুকোটাই আদালতে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিসও শুরু করেন। কিন্তু লকডাউনের কারনে মার্চের শেষ থেকে বন্ধ হয়ে যায় আদালত। সে সময় উত্তমকুমারনের হাতে ছিল মাত্র ১০ হাজার টাকা। কিন্তু সে টাকায় স্ত্রী আর ছেলে নিয়ে সংসার চালানো সম্ভব ছিল না। পেটের টানে শুরু হয় কাজের সন্ধান। কিন্তু তিনি করতে পারেন এরকম কোনও কাজই খুঁজে পাচ্ছিলেন না। শেষপর্যন্ত দেখলেন ঝুড়ি বোনা যেতে পারে। কারন দ্বাদশ শ্রেণির পর তিনি তাঁর বাবাকে ঝুড়ি বুনতে সাহায্য করেছিলেন। ভেবে দেখলেন, বাঁচতে হলে পরিবারের সেই পুরনো ব্যবসাই তাঁকে বেছে নিতে হবে। শুরু হল ঝুড়ি বোনার কাজ। সপ্তাহে ১২ টা করে ঝুড়ি বানান তিনি। আর সেই ঝুড়ি সারা সপ্তাহ ধরে বেঁচে আয় হয় ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। কিন্তু তাতেও চলছে না সংসার। আইনজীবী হিসেবে কাজ করে তিনি প্রতি মাসে প্রায় ২৫০০০ টাকা রোজগার করতেন। উত্তমকুমারন আরও জানান, তাঁর গ্রামে প্রায় দু লক্ষ এমন মানুষ আছেন। যাদের বেশিরভাগই ঝুড়ি বোনার কাজ করে। কিন্তু এঁদের উন্নতির জন্য সরকার থেকে কখনও কোনও রকম সাহায্য আসেনি। এই জন

জাতিকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে বলে তিনি মনে করেন।