করোনা আক্রান্ত এক যুবককে নিতে এসে ঘাম ছুটেছে পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। পুলিশ এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা তাকে নিতে এলে সে ধারালো দা উঁচিয়ে তাদের তাড়া করে। শুধু তাই নয় তার সামনে যেই আসছে তাকেই সে দা নিয়ে তারা করছে। প্রাণের ভয়ে তার পাশপাশে যেতে সাহস পাচ্ছে না কেউ। এমনকি পুলিশকর্মী এবং সাংবাদিকদেরকেও সে তাড়া করে। ঘটনাটি ঘটেছে আলিপুরদুয়ারের শামুকতলা থানার মহাকালগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের রায়পাড়া এলাকার।
জোর করে তাকে ধরতে গেলে সে আত্মহত্যারও হুমকি দেয়। কখনও ধান খেত আবার কখনও বাঁশবাগানের আড়ালে গিয়ে সে লুকিয়ে পড়ে। ফলে নাস্তানাবুদ হতে হয় পুলিশ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের। অনেক বুঝিয়েও তারা তার নাগাল পেতে ব্যর্থ হয়। যদিও পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবী মানসিক ভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ ওই যুবক। হঠাৎ কেনই বা এমন আচরণ শুরু করেছে সে, তা বুঝে উঠতে পারছে না কেউ। কিছুদিন আগেই ভিনরাজ্য থেকে বাড়ি ফেরার পর ওই যুবককে মাদারিহাটের কোয়ারান্টিন সেন্টারে পাঠিয়ে ছিল স্বাস্থ্য দপ্তর। সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে শনিবারই বাড়ি ফিরেছিল সে। রবিবার আলিপুরদুয়ার জেলায় নতুন করে ১৮ জনের দেহে করোনার সংক্রমণের হদিশ মেলে। সেই তালিকায় নাম রয়েছে আলিপুরদুয়ার দুই নম্বর ব্লকের মহাকালগুড়ির চার জনের। তাদের মধ্যে ওই যুবকও রয়েছে। চিকিৎসার জন্য রবিবার বেলা তিনটে নাগাদ স্বাস্থ্য কর্মী ও পুলিশ তাদের আনতে গেলেই শুরু হয় এই তান্ডব।দা হাতে এই যুবককে সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় তাঁদের। ঘটনার খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে মহাকালগুড়িতে ছুটে যান শামুকতলা থানার ও সি বিরাজ মুখোপাধ্যায়। কিন্তু তিনিও ব্যর্থ হন। একসময় তারা হাল ছেড়ে দেয়। এরপর হাতে গোনা কয়েকজন পুলিশকর্মী ও স্বাস্থ্য কর্মী লুকিয়ে পাহাড়া দিতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত সন্ধে ছটার পর ধরা পড়ে ওই যুবক। প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টার লুকোচুরি এবং নাটকের পর অবশেষে ঘটনার পরিসমাপ্তি ঘটে।

ছবিঃ প্রতিকি।