ভারত নদী মাতৃক দেশ। নদীর সঙ্গে ভারতবর্ষের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। আমাদের দেশে গঙ্গা নদীকে মা হিসেবে পুজো করা হয়। দেশের কৃষি কার্যের অধিকাংশই নদী গুলির উপরশীল। এছাড়া পানীয় জল,বিদ্যুৎ উৎপাদন, কলকারখানা, নগর কোনকিছুই নদীকে ছাড়া চলতে পারে না। এই নদীই কিনা আবার সোনার উৎসস্থল। অর্থাৎ এমন কিছু নদী রয়েছে যেখান থেকে সোনা পাওয়া যায়। অবিশ্বাস্য হলেও এটি সম্পূর্ণ সত্যি। আরো চমকে যাবার বিষয় যে এর মধ্যে রয়েছে এদেশেরও নদী। এমনই একটি নদী হল ঝাড়খন্ডে সুবর্ণরেখা।এই নদীটির নামের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে সোনা। অর্থাৎ”সুবর্ণ”কথাটির অর্থ হল”সোনা”। মনে করা হয় যে এই নদীর জলের তলায় অনেক সোনা বয়ে চলেছে। সুবর্ণরেখা নদীর উৎপত্তিস্থল রাঁচির পিসকা গ্রাম থেকে। কথিত আছে একসময় এই পিসকা গ্রামে সোনার খনি ছিল। সেই থেকেই এই নদীটির নামকরণ হয় সুবর্ণরেখা। বন্যার সময় যখন নদীর জল তীরে উঠে আসে তখন নদীর জলের সঙ্গে মিশে যায় এই সোনা এবং যখন জল পাড় থেকে নেমে যায় তখন জলের সঙ্গে বহু সোনাও চলে যায় নদীগর্ভে। আজও স্থানীয় মানুষদের বালি থেকে সোনা খুঁজতে দেখা যায় সেখানে। এধরনের আরও একটি নদী হল
খারকাই নদী। এটি সুবর্ণরেখার উপনদীর। এই নদীটি বয়ে গিয়েছে জামশেদপুরের আদিত্যপুর এর উপর দিয়ে। খুব ছোট এই নদীটির দৈর্ঘ্য মাত্র ৩৭ কিলোমিটার। এই নদীতেও সোনা পাওয়া যায় বলে অনেকে মনে করেন। সুবর্ণরেখা নদীর সাথে যোগসূত্রের কারণেই হয়তো এই খরকাই নদীতেও সোনা ভেসে এসেছে। এই নদীর তীরেও স্থানীয় মানুষদের সোনার সন্ধান করতে দেখা যায়। তাদের মতে সারাদিন খোঁজার পর চালের থেকেও ছোট আকারের সোনার টুকরো পাওয়া যায়।

বিদেশের মাটিতে এমন একটি নদী হল ক্লনডাইক নদী। এটি কানাডা শহরের ইওকন নদীর উপনদী। ওজিলয়েভে পর্বত থেকে সৃষ্টি হয়েছে এই নদীটি। এই নদীরও আশেপাশে ও সোনা পাওয়া যায় বলে মনে করা হয়। ১৮৯৬ সালে ১৬ ই আগস্ট প্রথমে এই নদীতে সোনার সন্ধান পাওয়া যায়। মার্কিন খনি সন্ধানকারী জর্জ কার্মেন প্রথমে এই সন্ধান দেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ১৯৯৬ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত রীতিমতো গোল্ড রাশ হয় শহরের এই নদীতে। একাধিক খনিজ সন্ধানকারী বেরিয়ে পড়েন ক্লনডাইকের উদ্দেশ্যে। জানা যায় তাদের অনেকই সোনা উত্তোলন করে প্রচুর ধনী হয়ে গিয়েছিলেন।