শিক্ষা ব্যবস্থা যে আজ সম্পুর্ন ভাবে ব্যবসায় পরিণত তার চরম দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো নেতাজী সুভাষ ওপেন ইউনিভার্সিটি বা NSOU.
করোনা মহামারী মোকাবিলায় লকডাউনের কারনে দেশের প্রায় সবকিছুই বন্ধ। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো সবই জুন মাসের পর তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করবে বলে জানায়। দেশের প্রায় সব স্কুল এবং কলেজ গুলো তাদের ফি সহ যে কোন টাকা নেওয়া বন্ধ রেখেছে। কারন এই মুহূর্তে দেশের প্রতিটি মানুষের আর্থিক অবস্থা শোচনীয়।
ঠিক এই সময় বর্বর আর অমানবিক আচরণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো NSOU.বা নেতাজী সুভাষ ওপেন ইউনিভার্সিটি। এই ইউনিভার্সিটির অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী বিভিন্ন কাজের সাথে যুক্ত। আর এই কাজ করবার কারনেই তারা রেগুলার ভাবে কলেজে না পড়ে এখানে ভর্তি হয়েছে। সেই সব ছাত্র-ছাত্রীর কাজ-কর্ম এখন বন্ধ। তারা অর্থনৈতিক ভাবে খুবই কঠিন সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। NSOU তে এমনও ছাত্র-ছাত্রী রয়েছেন যারা নিজের খরচ নিজেই টিউশন করে চালায়। তাদেরও এই মুহূর্তে টিউশন বন্ধ।

ঠিক এই সময় NSOU কর্তৃপক্ষ এই অসহায় ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে গলা টিপে নানান উপায়ে আদায় করে চলেছে অর্থ। লকডাউনের মাঝেই চলে গেল পরীক্ষার ফি জমা নেবার শেষ তারিখ। সেখানে BDP এর ছাত্র-ছাত্রী দের কাছ থেকে প্রায় ৮০০ টাকা করে নেওয়া হয়। আর তা শেষ হতে না হতেই শুরু হয়ে গেল BDP-RENEWAL এর জন্য টাকা নেওয়া। এর পরিমান প্রায় ৩০০০ এর কাছাকাছি।
এবার আপনারাই বলুন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি সব রকম মানবিকতা ভুলে গিয়ে এই সময়ে ছাত্র-ছাত্রী দের কাছ থেকে এভাবে টাকার পর টাকার চাপের বোঝা চাপিয়ে দেয়, তারা কি করবে? এক ছাত্রের কথায় গত এক মাস ধরে ঘরে খাবার নেই। টিউশন করতাম, সেটাও বন্ধ। NSOU থেকে BDP – দ্বিতীয় বর্ষে বাংলা সান্মানিক পরীক্ষা দেবো। এই সময় হাতে খাবার টাকাই নেই। RENEWAL এর টাকা দেবো কিভাবে? এবার বোধহয় আমার আর পরীক্ষা দেওয়া হবে না।

সরকার কি এসব দেখছে না? মানুষ কি ঘুমিয়ে আছে? শুধু অর্থের বিনিময়ে শিক্ষা, আর সেই শিক্ষায় শিক্ষিত বলেই আজ সকলের চোখে পট্টি। ছাত্র-ছাত্রীদের কথায় -আপনারা টাকা নিন। কিন্তু এই সময়টা অন্তত রেহাই দিন। সরকার যেখানে EMI গুলো পর্যন্ত আপাতত বন্ধ রেখেছে, সেখানে আপনারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কি একটু মানবিকতার পরিচয় দিতে পারেন না ? এই হল আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা।