নীলাঞ্জন সেনগুপ্তঃ ইতিহাসের অনেক তথ্যই এখনো মানুষের অজানা। প্রতিনিয়ত যার খোঁজ চলছে। প্রাচীন যুগের এমনই এক বন্দর শহরের সন্ধান দিলেন ঐতিহাসিকেরা। এই বন্দর শহরের নাম হেরাক্লিয়ন। প্রাচীনকালে কনস্টান্টিনোপল, রোম এবং এথেন্স এর বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হতো ভূমধ্যসাগর। আর নীল নদের পশ্চিম প্রবেশের মুখেই ছিল এই হেরাক্লিয়ন বন্দর শহর। দীর্ঘ ১২০০ বছর পরে সেই শহরের সন্ধান পাওয়া গেল সমুদ্রের নীচ থেকে। ঐতিহাসিকদের মতে পঞ্চম শতাব্দীতে গ্রিকদেবতা হেরাক্লেসের নাম অনুসারেই এই শহরের নাম রাখা হয় হেরাক্লিয়ন।
এই শহর কিভাবে সমুদ্রের নিচে তলিয়ে গেল তা যদিও এখনো রহস্য। সমুদ্রে গর্ভে তলিয়ে গেছে শহরের বড় বড় মন্দির ভবন সহ গোটা শহর। এছাড়া পাওয়া গেছে খোদাই-করা পাথরের ফলক, লিপি, মুদ্রা, এবং উদ্ধার হয়েছে কিছু শব রাখার জায়গা। এই শহরটি যে, বন্দর শহর ছিল তার প্রমাণ পাওয়া যায়, এখান থেকে প্রায় ৭০০টি নোঙ্গর এবং ৬৪ টি জাহাজ খুঁজে পাওয়া গেছে।
এই শহরের অপর নাম ‘থনিস’। মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া থেকে ২০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে এই শহরটি অবস্থান করছে। এই অঞ্চলটি বন্দর ছাড়াও মিশরীয়দের দেবতা আমনের এক সুবিশাল মন্দিরের জন্যও বিখ্যাত ছিল। ঐতিহাসিকরা মনে করেন কোন এক বিধ্বংসী ভূমিকম্পের ফলেই পুরো শহর চলে যায় সমুদ্রের নিচে। ২০০০ সালে ফরাসি প্রত্নতত্ত্ববিদ ফ্রাঙ্ক গুডি এবং তার সহকারীরা এই শহরটি খুঁজে পান। শুধু তাই নয়, তারা প্রায় ১৩ বছর ধরে শহরের খননকাজ চলান এবং একে একে উদ্ধার করেন একাধিক অমূল্য গুপ্তধন। সমুদ্রের তলায় পলিমাটি বালি সরিয়ে তারা উদ্ধার করেন মিশরীয় দেবতা আমন ও তার ছেলে খনোসৌ এর মন্দিরের ভগ্নাংশ। এধরনের কত সভ্যতা যে সমুদ্র বা মাটির গর্ভে বিলীন হয়ে রয়েছে তা আমরা জানি না। কিম্বা তা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। প্রত্নতাত্ত্বিকদের এই প্রয়াস ভবিষ্যতে হয়তো আরও অসংখ্য এধরণের হারিয়ে যাওয়া শহরের সন্ধান দেবে যা ইতিহাসের পরিবর্তনও ঘটাতে পারে।