খবর এসেছিল চীনের সাথে সংঘর্ষে একজন কর্নেল এবং ২ জন জওয়ান সহ মোট ৩ জন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছেন। কিন্তু সংবাদ সংস্থা এ.এন.আই জানাচ্ছে, অন্তত পক্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনার মৃত্যু হয়েছে লাদাখ সীমান্তে। মঙ্গলবার দুপুরে খবর পাওয়া যায় যে লাদাখে রীতিমতো যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গালওয়ান উপত্যকায় সোমবার রাতে চীনা সৈন্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে শহিদ হয়েছিলেন এক ভারতীয় সেনা-অফিসার ও দুই জওয়ান। সকাল পর্যন্ত এমনই খবর ছিল। কিন্তু রাতের মধ্যেই পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারন করে। খবর আসে যে চিন-ভারত সীমান্তে কমপক্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনার মৃত্যু হয়েছে চীনা সৈন্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে এবং আহত হয়েছে আরও ১৭ জন। চীনের সংবাদ মাধ্যমেও অবশ্য প্রকাশ্যে এসেছে, তাঁদেরও অনেক সৈন্য প্রাণ হারিয়েছে বলে জানা যায়। সংবাদ সংস্থা এ.এন.আই জানিয়েছে, নিহত ও আহত হয়েছেন চীনের প্রায় ৪৩ জন সেনা। চীনের অভিযোগ, সীমান্ত পার করে চীনাদের উপর হামলা চালিয়েছে ভারতীয় সেনা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দু দেশের শীর্ষ সেনা আধিকারিকরা বৈঠকও করেছেন। গোটা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং ও সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। তিন সেনার প্রধানদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। বিদেশ মন্ত্রকের তরফ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে – চীন চুক্তি ভঙ্গ করেছে । সেই কারণেই এমন ঘটনার সুত্রপাত। তা নাহলে এমন ঘটনা হত না।
সরকারি বিবৃতিতে সকালে অবশ্য জানানো হয়েছিল, ‘গতকাল রাতেই গালওয়ান উপত্যকায় দু পক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়। ভারতে এক অফিসার ও দুই জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে সেনাবাহিনীর শীর্ষ আধিকারিকরা উত্তেজনা প্রশমনে বৈঠক করছেন। তবে এই সংঘর্ষে কোন গোলা গুলি চলেনি বলেই জানানো হয় সেনা সূত্রে। খালি হাতে লড়াই করেই প্রাণ গিয়েছে ভারতীয় অফিসার ও জওয়ানদের। কিন্তু রাতের মধ্যেই সেই সংখ্যাটা ২০ হয়ে যাওয়ায় সীমান্তের উত্তেজনা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। কংগ্রেসের অধীর চৌধুরীর মতো নেতারা যখন বদলার কথা বলছে তখন মোদী সরকার কি সিদ্ধান্ত নেন এখন সেটাই দেখার।