রঞ্জন রায়ঃ সীমান্তে সংঘর্ষে শহীদ রাজেশ ওরাঁও জানতেন চীন এবং তাদের সেনারা কতটা পাশবিক মানসিকতার। দেশের একজন আদর্শ সেনা হিসেবে সে দেশকে মন প্রাণ দিয়ে ভালবাসতো এবং শেষ পর্যন্ত প্রাণ দিয়েও দিল।
রাজেশের বন্ধুদের সাথে
শেষের কয়েকটা দিন যখনই হোয়াটসঅ্যাপে কথা হত, তখনই সে মেসেজ করে চিনা দ্রব্য ব্যবহার করতে বারণ করত। বন্ধুরাও তাঁর কথা শুনত। কিন্তু সেটা হয়তো আর জেনে যাওয়া হল না রাজেশের। বন্ধুদের আফসোস সেটাই! হোয়াটসঅ্যাপ ডিপির ছবিটা এখনও জ্বলজ্বল করছে বন্ধুদের মোবইলে। গ্রুপে পাঠানো বরফে ঢাকা সীমান্তের ছবিগুলো মোবাইলের গ্যালারিতে স্মৃতি হয়ে রয়ে গিয়েছে, কিন্তু চলে গেল রাজেশ। গাছতলায় বসে মাটির দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বলছিলেন রাজেশেরই কয়েকজন বন্ধু।
হোয়াটসঅ্যাপে তাঁদের একটা গ্রুপও রয়েছে ৷ রাজেশ সেখানে চীন ভারত সীমান্তের সুন্দর সুন্দর ছবি তুলে পাঠাতেন ৷ প্রতিদিন সবার খবর নিতেন। বাড়ি ফেরা মানেই বন্ধুদের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দেওয়া। ভারত-চিন সীমান্তে যখন পরিস্থিতি খারাপের দিকে তখন চিনের অ্যাপস ও জিনিস ব্যবহার করতে না করেছিলেন রাজেশ ৷ ২০১৫ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন রাজেশ ওরাঁও ৷ সরস্বতী পুজোয় শেষবারের মতো বাড়ি এসেছিলেন ৷ আবার আসার কথা থাকলেও লকডাউনের কারনে আর আসা হয়নি ৷ তারই মাঝে শুরু হয়ে যায় ভারত-চিন সীমান্তে মুখোমুখি সংঘর্ষ ৷ সোমবার রাতে লাদাখের ভারত-চিন নিয়ন্ত্রণরেখায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। আর সেখানেই শহীদ হন রাজেশ। সে বাড়ি ফিরলো তবে কফিনবন্দি হয়ে। বীরভূমের শহিদ জওয়ান রাজেশ ওরাঁও-এর পাড়ায় ইতিমধ্যেই মানুষের ঢল। তাঁর এক ছোট বাড়িতে ভীড় জমিয়েছে পাড়া প্রতিবেশী, আত্মীয়রা। প্রত্যেকেই বীর জওয়ানকে একবার চোখের দেখা দেখতে চান। শোকস্তব্ধ গোটা গ্রাম। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেনাবাহিনী এবং ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে গ্রামের বিভিন্ন জায়গা।
রাজেশ নেই। কিন্তু তার বন্ধুরা তাকে কথা দিয়েছে কোন চীনা দ্রব্য তারা ব্যবহার করবে না এবং সত্যিই তারা করছে না। আর এটাই বন্ধু রাজেশের প্রতি তার শ্রদ্ধা।