বাপি গুপ্তঃ আসাম প্রদেশের এক গরীব সবজি বিক্রেতা নিখিল। সবজি বিক্রি করেই চলে তার জীবন। তার এই জীবনে একদিন ঘটলো এক অদ্ভুত ঘটনা। ঘটনার সূত্রপাত এখান থেকেই, একদিন রাস্তায় প্রতিদিনের মতই সবজি বিক্রি করছিল নিখিল, ঠিক এই সময়ই তার চোখে পড়ে রাস্তার ধারে আবর্জনার স্তূপের মধ্যে কিছু একটা পড়ে আছে এবং সেখান থেকে শব্দ হচ্ছে।
নিখিল সেখানে দৌড়ে গিয়ে দেখতে পায় একটি ছোট্ট বাচ্চা মেয়ে সেখানে পড়ে রয়েছে। কিছুক্ষণের জন্য নিখিল অবাক হয়ে যায়। এরপর একজন ভালো মানুষিকতার পরিচয় দিয়ে সে ওই বাচ্চা মেয়েটিকে নিয়ে যায় তার বাড়ি। ফেলে যাওয়া বাচ্চাটিকে বাঁচায় নিখিল। মেয়েটির নাম রাখে মিথিলা। নিখিলের তখন বয়স ছিল প্রায় ৩২ এনং সে অবিবাহিত।ফলে সেই বাচ্চা শিশুকন্যাটিকে মানুষ করতে তার কোনো রকম অসুবিধাই হয়নি। প্রবল দরিদ্রতা আর অভাব থাকা সত্বেও নিখিল মিথিলাকে তার নিজের মেয়ের মতনই আদর যত্নে মানুষ করেন তাকে বড় করে তোলে। শুধু তাই নয়, মিথিলার ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাকে উপযু’ক্ত ভাবে তৈরিও করে সে।
মিথিলাকে পড়াশোনা শিখিয়ে সে করে তোলেন মানুষের মতো মানুষ। আর অবিশ্বাস্যভাবে সেই মিথিলাই বড়ো হয়ে একজন আইপিএস অফিসার হয়।
বর্তমানে একজন আইপিএস অফিসারের পদে কর্ম’রত মিথিলাও দেশের নানান জায়গায় তুলে ধরেছেন তাকে জীবন দান করা নিখিলের অবদানের কথা। যদিও মিথিলা নিখিলকেই তার বাবা বলে বর্ণনা করেন সবজায়গায়। তাই স্যালুট জানাতেই হয় নিখিলের মতন এমন দৃঢ়চেতা, উদার মানসিকতার মানুষ আর সেই সাথে মিথিলার মতো আদর্শ মেয়েকে।