গর্বিত চা বিক্রেতা বাবা। সারাজীবন ধরে চা বিক্রি করে মানুষ করেছেন মেয়েকে। আজ সেই মেয়ে হয়ে উঠেছেন ভারতীয় বায়ুসেনার পাইলট। তাঁর নাম আঁচল গাংওয়াল। বয়স ২৪। বাড়ি মধ্যপ্রদেশের ভোপাল থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে নিমচেতে। বাবা একজন চা বিক্রেতা। একজন চা বিক্রেতা হয়েও মেয়েকে এভাবে প্রতিষ্ঠিত করে তুলবার দৃষ্টান্ত সত্যিই বিরল। সেই সাথে মেয়েটিও প্রমান করে দিলেন স্বপ্ন আর ইচ্ছে থাকলে সব কিছুই অতিক্রম করা যায়। নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস আর নিজের স্বপ্নকে লক্ষ্য করে এগিয়ে চলতে পারলে সবকিছুই সম্ভব। আর সেই লক্ষ্যে এগিয়ে গিয়েই চা বিক্রেতা মেয়ে হয়ে উঠলেন বায়ুসেনার পাইলট। এই পরিচয় নিয়েই আঁচল আজ বায়ুসেনার বিমান ওড়াতে প্রস্তুত। ২০১৩ সালে উত্তরাখাণ্ডে ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের সময় যে ভাবে উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বায়ুসেনা তা দেখেই নিজেকে ধীরে ধীরে তৈরী করতে শুরু করেছিলেন আঁচল গাংওয়াল আর এগিয়ে যাচ্ছিলেন তার স্বপ্ন পূরণের দিকে জানালেন তাঁর চা বিক্রেতা বাবা। তারপর থেকেই নিজেকে সেনার পরীক্ষার জন্য তৈরি করতে শুরু করেন আঁচল। এদিক ওদিক থেকে বই জোগাড় করে চালিয়ে যেত সে নিজের পড়াশোনা। আঁচলের বাবা সুরেশ জানিয়েছেন, তিনি গত ২৫ বছর ধরে চা বিক্রি করেন। তাঁর আর্থিক অবস্থাও ভাল নয়। মেয়ে যা করেছে সব তাঁর নিজের চেষ্টায়। ৬ বারের চেষ্টায় সে পাস করেছে এই পরীক্ষা। তাঁর বাবা আরও জানান যে অনেকবার মেয়ের স্কুল কলেজের বেতনও দিতে পারেন নি তিনি। লোকের থেকে ধার করে টাকা জমা করেছেন। আজ মেয়ের জন্য গর্বে তাঁর বুক ভরে উঠেছে। মেয়ে তাঁর জীবনে এনে দিয়েছে আনন্দ। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীও ট্যুইট করে বাবা ও মেয়েকে আভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শুধু চা বিক্রেতা বাবার মুখ উজ্জ্বল নয়,আজ আঁচলের জন্য মধ্যপ্রদেশ থেকে শুরু করে গোটা দেশ গর্বিত।