মৃত্যুঞ্জয় রুদ্রঃ করোনা সংক্রমণের কারনে দীর্ঘদিন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর পঠন-পাঠন বন্ধ থাকবার পর নির্দিষ্ট কিছু নিয়মে জুলাই মাসের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা বলা হয়। যার ৮০% পুর্বের পরীক্ষার সর্ব্বোচ্চ নম্বর এবং ২০% আভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের মাধ্যমে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কিন্তু হঠাৎ করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ( UGC ) এর নতুন নির্দেশিকায় পরীক্ষা নেওয়া আবশ্যিক বলে ঘোষনা করে এবং ৩১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় সহ উচ্চ শিক্ষার সকল পরীক্ষা সম্পন্ন করবার কথা বলে। তবে এই পরীক্ষা স্বাস্থ্য বিধি মেনেই নেওয়া হবে বলেও জানায়। আর এই ঘোষনায় ছাত্র-ছাত্রী মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। রাজ্য সরকারের আগের নির্দেশিকা অনুযায়ী উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন মহাবিদ্যালয় গুলোর অধিকাংশই স্নাতক স্তরের ফাইনাল পরীক্ষার জন্য ২০% এর আভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের কাজ শুরু করে দেয়। ছাত্র-ছাত্রীরাও নিষ্ঠার সাথে ইতিমধ্যেই সেই মূল্যায়নের উত্তরপত্রও অনলাইনে জমা করেছে এবং করছে। কারন তাদের ফলাফল ৩১ শে জুলাইয়ে মধ্যে প্রকাশিত হবার কথা। এই অবস্থায় ছাত্র-ছাত্রী দের মধ্যে এই মুহূর্তে নানান প্রশ্ন দানা বাধতে শুরু করেছে। তবে কি তাদের এই অ্যাসাইনমেন্ট বা আভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন কোন কাজে লাগবে না ? তাদের কি আবার পরীক্ষা দিতে হবে ?
এপ্রসঙ্গে বলে রাখি। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন হিসেবে হোম অ্যাসাইনমেন্ট জমা করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ও সেই হিসেবে কাজ শুরু করে দিয়েছে। তাই কোন রকম অঘটন না ঘটলে এই সিদ্ধান্তই বহাল থাকবার কথা। যদিও এটি নির্ভর করছে রাজ্য সরকারের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের উপর। তবে এতটকু বলা যেতে পারে যে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় সহ রাজ্যের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় যারা ইতিমধ্যেই পরীক্ষার ফলাফলের প্রস্তুতি শুরু করে ফেলেছে তারা পুনরায় পরীক্ষা নেবে না। যদিও বা ইউ.জি.সি এর নির্দেশিকা মেনে পুনরায় পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তবে ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে চরম অন্যায় করা হবে। সেই সাথে শিক্ষা এবং তার পরীক্ষা ব্যবস্থা সম্পুর্ন ভাবে প্রহসনে পরিণত হবে।