কেদারনাথ মন্দির হিন্দুদের অন্যতম প্রধান তীর্থস্থানের একটি। এটি ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের গাড়োয়াল হিমালয় পর্বতশ্রেণীতে অবস্থিত ।কেদারনাথ মন্দিরটি মন্দাকিনী নদীর তীরে স্থাপিত। যেখানে আদি দেবাবিদেব মহাদেব অধিষ্ঠিত রয়েছেন। তীব্র শীতের জন্য মন্দিরটি কেবল এপ্রিল মাসের শেষ থেকে কার্তিক পূর্ণিমা অবধি খোলা থাকে। শীতকালে কেদারনাথ মন্দিরের মূর্তিগুলিকে ছয় মাসের জন্য উখিমঠে নিয়ে গিয়ে পূজা করা হয়। এই অঞ্চলের প্রাচীন নাম ছিল কেদারখণ্ড। তাই এখানে শিবকে কেদারনাথ অর্থাৎ, কেদারখণ্ডের অধিপতি নামে পূজা করা হয়। মন্দিরটি খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ-নবম শতাব্দীর তামিল নায়ানার সন্তদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। এই কেদারনাথকে পাডল পেত্রা স্থলম বা মহাদেশের ২৭৫টি অতি পবিত্র শিবনিবাসের অন্যতম হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
কেদারনাথ মন্দিরে যাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সড়কপথ নেই। ২০১৩ সালের ১৪ই জুন এই কেদারনাথে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আগে গৌরীকুণ্ড থেকে ১৪ কিলোমিটার পথ পাহাড়ি চড়াই পথে ট্রেকিং করে মন্দিরে যেতে হত। লোকের বিশ্বাস, আদি শঙ্কর এই স্থানেই অধিষ্ঠিত ছিলেন যেখানে মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছে। যদিও মহাভারতে কেদারনাথ মন্দিরের উল্লেখ রয়েছে। তবে তা একটি জ্যোতির্লিঙ্গ হিসেবে বিবেচিত। কথিত আছে, পাণ্ডবরা এখানে তপস্যা করে শিবকে তুষ্ট করেছিলেন। তাই এটি উত্তর হিমালয়ের ছোট চার ধামতীর্থ বা চতুষ্টয়েরও অন্যতম। বর্তমানে কেদারনাথ যেতে হলে শোনপ্রয়াগ থেকে হাঁটতে হয়। এখান থেকে গৌরীকুণ্ড চার কিমি। গৌরীকুণ্ড থেকে সাড়ে ছয় কিমি দূরে ভীমবলি,সেখান থেকে আট কিমি দূরে লিঞ্চোলি, লিঞ্চোলি থেকে কেদারনাথ পাঁচ কিমি অর্থাৎ আগে প্রায় চোদ্দ কিমি এবং এখন সাড়ে তেইশ কিমি হাটতে হয়।
এই কেদারনাথকে মহাদেব এর অত্যন্ত জাগ্রত তীর্থস্থান বলে মনে করা হয়। কথিত আছে মন স্বচ্ছ না থাকলে এবং জীবনে কোন পাপ করে থাকলে কেদারনাথ দর্শন করা যায় না। কারন অত্যন্ত দূর্গম এই পথে কেবল তারাই যেতে পারেন যাদের রুদ্র তার স্মরণে ডেকে পাঠান। তবে গাড়োয়াল হিমালয়ের বুকে এই মনোমুগ্ধকর কেদারনাথ মন্দির যে কোন শিবভক্তের মনকে জয় করবার এবং শিব সাধনায় নিজেকে মগ্ন রাখবার জন্য যে আদর্শ এবং উপযুক্ত স্থান এবিষয়ে সন্দেহ নেই।