বেআইনি কাঠ রাখবার অভিযোগে সোনাজয়ী অর্জুন পুরস্কার এবং বঙ্গরত্ন সন্মান প্রাপ্ত খেলোয়াড় স্বপ্না বর্মনকে ৩০ দিনের নোটিশ ধরায় বনদপ্তর। গোপন সুত্রের ভিত্তিতে জলপাইগুড়ি পাতকাটা গ্রামপঞ্চায়েতের অন্তর্গত ঢিং পাড়ায় স্বপ্না বর্মনের নির্মীয়মান নতুন বাড়িতে গত সোমবার দুপুরে অভিযান চালায় বনদপ্তর। এরপর তারা স্বপ্না বর্মনের বাড়িতে রাখা কাঠের কাগজ প্ত্র দেখতে চায়। পরিবারের পক্ষ থেকে সেইমুহুর্তে কাগজ দেখাতে না পারায় বনদপ্তর তাদের ৩০ দিনের মধ্যে কাগজ দেখানোর নোটিশ দেয়। যদিও এ বিষয়ে স্বপ্না বর্মন বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। যদিও এই ঘটনা নিয়ে বিগত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বপ্না বর্মনের সাথে বনকর্তাদের অশোভনীয় আচরণের কারনে নানান প্রতিক্রিয়া দেখতে পাওয়া যায়। অনেকের বক্তব্য দেশের এতবড় একজন সোনা জয়ী খেলোয়াড় জেনে শুনে এসব করতে পারেন না। তার মতো ব্যাক্তিত্বকে অসন্মান করা হয়েছে। ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এক সাংবাদিক বৈঠক করে জানান যে, বেলাকোবা ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার সঞ্জয় দত্তকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর সেই খবর পাবার পর বেলাকোবা রেঞ্জ অফিস এবং বেলাকোবা ও আমবাড়ি রেঞ্জের অন্তর্গত বন সুরক্ষা কমিটির সদস্যরা জড়ো হয়ে এর প্রতিবাদ জানায়। তাদের দাবি যে, অন্যায় ভাবে সঞ্জয় দত্তকে বদলি করা হয়েছে, কারন তিনি শুধু তার কর্তব্য পালন করেছেন।এছাড়া বন আধিকারিক সঞ্জয় দত্ত স্থানীয় মানুষের কাছে ভগবানের মত ছিলেন। তাই তাঁর এই অন্যায় বদলি তারা মেনে নেবেন না। শুধু সাধারণ মানুষই নয়। সঞ্জয় দত্তের বদলি রুখতে এবার আন্দোলনে এগিয়ে এলেন এলাকার কিন্নররা। রবিবার বেলাকোবা রেঞ্জ অফিস আটকে তারাও গ্রামবাসীদের সাথে মিলিত হয়ে আন্দোলনে সামিল হলেন। তাদের মধ্যে সোনালী দেবী নামে এক কিন্নর বলেন শিলিগুড়ি সহ গোটা উত্তরবঙ্গে প্রচুর বিত্তবান মানুষ আছেন। কিন্তু আমাদের বিপদে আপদে তারা কেউ পাশে থাকেন না। এই সঞ্জয় দত্ত স্যারই বিপদে আপদে সবসময় আমাদের পাশে থাকেন। তাই আজ আমরা মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমাদের আঁচল করজোড়ে তার বদলি রদের ভিক্ষা চাইছি। আশাকরি মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চয়ই আমাদের কথা শুনবেন।