পিয়ালী সরকারঃ একদিকে করোনার আতঙ্ক, অন্যদিকে লকডাউন। এক চরম দুর্দশার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছে গোটা বিশ্বসহ সারা দেশের মানুষ। কারো ব্যবসা বন্ধ তো কারো চাকুরী নেই। হাতে নেই টাকা তো ঘরে নেই নেই ভাত। সরাসরি দেখা সাক্ষাৎ নেই মানুষের সাথে মানুষের। অধিকাংশ মানুষই আজ মানসিক অবসাদের শিকার। এক হতাশাগ্রস্ত দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে মানুষ। এখন প্রশ্ন কত শতাংশ ভারতীয় এই সময় মানসিক অবসাদ তথা হতাশার শিকার। এক সমীক্ষায় জানা যায়। করোনা মহামারীর ভয়াবহতাকে সাথে নিয়ে প্রায় পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হতে চলল। এর মধ্যে দেশের প্রায় ৪৩ শতাংশ মানুষ হতাশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। স্মার্ট ও প্রযুক্তি নির্ভর একটি স্বাস্থ্য সংস্থা G.O.Q.I.I. করোনা আবহের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার ভারতীয়র উপর একটি সমীক্ষা চালিয়াছিল। সেখানে দেখা গেছে ৪৩ শতাংশ ভারতীয় এই সময় হতাশায় ডুবে রয়েছেন। মাস্ক পরা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার, মানুষের সঙ্গে মানুষের শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, যদিও এসব এখন মানুষের নিত্যকর্মের বিষয়। সমীক্ষায় ২৬ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতির কারনে তাঁরা কিছুটা অবসাদে রয়েছেন। ১১ শতাংশ জানিয়েছেন মাঝেমধ্যে তাঁরা অবসাদগ্রস্থ হচ্ছেন। ছয় শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা গভীরভাবে অবসাদে ডুবে রয়েছেন।
নতুন জীবনযাত্রাকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে সবাই। কিন্তু কাজটা সহজ হচ্ছে না। কারণ এমন পরিস্থিতি আগে কখনো আসেনি। এতদিন ধরে লকডাউন বা মানুষের রোগাক্রান্ত হওয়ার এমন ভয় আমাদের এর পূর্বে হয়নি।অবসাদগ্রস্তদের মধ্যে অনেকেই জানিয়েছেন, তাঁরা কোন কাজেও উত্‍সাহ বা আনন্দ পাচ্ছেন না। হতাশা গ্রাস করছে তাদের জীবনকে। আনন্দ-স্ফূর্তির অভাব অনুভব করছেন তাঁরা। এমনকি এর ফলে তারা আত্মবিশ্বাসও হারাতে বসেছেন। একইসাথে কোন কাজেই মনোসংযোগ করতে পারছেন না অনেকে। অনেকের মধ্যে ক্রমাগত বাড়ছে অস্থিরতা। মাঝেমধ্যেই নিজেকে আঘাত করার একটা প্রবণতাও দেখা দিচ্ছে অনেকের মধ্যে।
তবে আমাদের এই পরিস্থিতিকে মেনে নিতেই হবে এবং সেভাবেই মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে চলতে হবে। এক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞান সন্মত কোন চিকিৎসা উচ্চবিত্তের প্রয়োজন হলেও মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত তথা গরীব মানুষদের জন্য তার চেয়ে বেশী প্রয়োজন সরকারী সাহায্যের।