মৃত্যুঞ্জয় রুদ্রঃ ঝাড়খন্ডের ধানবাদ এলাকায় তোলাবাজি সহ একাধিক অপরাধের অভিযোগে রবিবার গ্রেফতার করা হয় সান্টু গুপ্ত নামে এক যুবককে। এরপর তাঁর করোনা টেস্ট করা হলে জানা যায় সে করোনা পজিটিভ। সাথে সাথে তাঁকে ধানবাদের এক কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অথচ রবিবার রাতে সেই কোভিড হাসপাতালের চেহারাই সে বদলে দেয়। সেখানে রীতিমতো মদের আসর বসিয়ে সে জমিয়ে মদ্যপান করতে শুরু করে। আর তাঁর সেই মদ্যপানের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি নজরে আসে পুলিশ প্রশাসনের। আর এই ঘটনায় সেই রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রশ্নের মুখে এসে দাড়িয়েছে।
অস্বাভাবিক এই ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়খণ্ডে। সেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন ইতিমধ্যেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ঝাড়খণ্ডের ধানবাদে ভারত কুকিং কোল লিমিটেডের সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে এই সান্টু গুপ্ত। সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা গিয়েছে, সান্টুর এক হাতে রয়েছে পুলিশের হ্যান্ডকাফ। আর তাঁর সামনের টেবিলে সাজানো রয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্যাকেটে খাবার। সান্টু একটি চেয়ারে বসে বোতল থেকে গ্লাসের মধ্যে মদ ঢালছে এবং অন্য একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে সেই মদ পান করছে। শুধু তাই নয় হাসপাতালে অন্যান্য করোনা আক্রান্ত রোগীদের থেকেও সে রীতিমত হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করেছে বলে অভিযোগ। সান্টুর মদ্যপানের এই ছবি সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, কোভিড হাসপাতালের ভেতর একজন রোগী তথা আসামী কিভাবে মদ এবং খাবার-দাবার পেল? সান্টু যখন হাসপাতালে মদ্যপান করছে তখন কি কোনও চিকিৎসক, নার্স বা হাসপাতাল কর্মী তাকে দেখতে পায় নি? যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবিষয় নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। ধানবাদের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার উমাশঙ্কর সিং জানিয়েছেন,আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি মহকুমাশাসকও এই ঘটনাটি নিজে তদন্ত করছেন। খুব শীঘ্রই আমরা তদন্তের রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠাব। তবে এই ঘটনাটি নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় যথেষ্ট হৈ চৈ শুরু হয়েছে। তাতে দেশের কোভিড হাসপাতাল গুলোর নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে।