শতরুপা সরকার (মেকআপ আর্টিস্ট)

লেখাটি একবার মন দিয়ে পড়ুন

অবাক হচ্ছেন? মানতে পারছেন না! অসুবিধা হচ্ছে চিনতে? হ্যাঁ, এটাই আমি যার মাথায় চুল নেই, চোখের পাতা নেই, আইব্রো নেই গায়ের লোম নেই আমি সেই শতরূপা সরকার (24)
পাঁচ বছর বয়স থেকে অ্যালোপেসিয়ার শিকার আমি যে কারণে আমার মাথার চুল ধীরে ধীরে শরীরের লোম চোখের পাতা আই ব্রো উঠে যায়…..
অনেক হয়েছে! ছোটবেলা থেকে শুনতে শুনতে স্কুল, কলেজ, নিজের কাজের জায়গা, রাস্তাঘাটে, ট্রেনে, বাসে আমায় নিয়ে অনেক হেসেছেন। নিজেকে সাজাবার জন্য পরচুলা ব্যবহার করি। তাতেও অনেক কিছুই মন্তব্য করেছেন। সবার সামনে মাথাটা ঢেকে রাখতে হবে কোনও আবরণ দিয়ে কেন?
আমি কি রক্তে মাংসে মানুষ না?
আমারও তো অস্বস্তি বোধ হয়।
সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকতে হয়।
নিজেকে ফ্যামিলির কাছ থেকে, নিজের গ্রামের থেকে অনেক আগে সরিয়ে নিয়েছি নিজেকে। ভালো লাগতো না অস্বস্তিকর পরিবেশ, নিজেকে ভালো রাখার জন্য আগে নাচ করতাম, তাতেও বাজে কিছু মন্তব্য করেছেন আপনারাই। তারপর ধীরে ধীরে প্রফেশন পাল্টাতে হয়েছে সেটাও আপনাদেরই জন্য।
কারন আপনাদের চোখে তো কোন প্রতিভারই দাম নেই। আপনারা তো ড্রেসআপ দেখেন,ফিগার দেখেন, রাত হয়ে গেলে নোংরা মন্তব্য করেন। আজ কোথাও মেকআপ না শিখে যখন নিজে স্বনির্ভর হওয়ার চেষ্টা করেছি, সেই সময়ও আমার আত্ম বিশ্বাস ভাঙার অনেক চেষ্টা করেছেন। আমি কিন্তু একটুও ভেঙে পড়িনি, বরং আরো কিছু মানুষকে বাঁচার প্রেরণা দিতে চাই নিজেকে উদাহরণ দিয়ে নিজের অহংকার দিয়ে…..
না না রূপের অহংকার নয়। অহংকার আমার নিজের দুর্বলতা(আপনাদের কথায়) যেটা আমার কাছে শক্তি, তাই
এবার সময় এসেছে বদলাবার….
আগে আমার সাথে অনেকেই কথা বলতো না রাস্তাঘাটে, এখন তারাই নিজে থেকে যখন কথা বলতে আসে সত্যি খুব ভালো লাগে। বুঝতে পারি চেহারাটা পরচুলা তে সুন্দর দেখায় তো তাই মানুষ বলে মনে হয়, তাই সবাই কথা বলে।
আমার মতন বহু মানুষ আছে যারা আমার মতো হয়তো নিজেকে সরিয়ে রাখতে চেষ্টা করে সবার থেকে।
এটাই বলবো সবাইকে, কারোর দুর্বলতা নিয়ে হেসো না…. নিজের দিকে তাকিয়ে দেখো দেখবে কোথাও না কোথাও তোমারও কিছু দুর্বলতা আছে…..

লেখা ও ছবিঃ
শতরুপা সরকার (মেকআপ আর্টিস্ট)