মৃত্যুঞ্জয় রুদ্রঃ করোনা মহামারী বদলে দিয়েছে সমগ্র পৃথিবীর চেহারা। যদিও মৃত্যুর আতঙ্ক মানুষ বেশ কাটিয়ে উঠেছেন। তাঁরা আজ অনেকটাই স্বাভাবিক, তাঁরা বুঝেছেন করোনা মানেই মৃত্যু নয়। কঠোর ভাবে সামাজিক দুরত্ব মেনে চললেই এই ভাইরাসকে দূরে সরিয়ে রাখা সম্ভব। তাই প্রায় প্রতিটি দেশেই নিয়ম করে পালন করা হচ্ছে লকডাউন। তবে এই লকডাউনের কারনে মানুষ আর্থিক দিক থেকে একে শেষ হয়ে গিয়েছে এবিষয়ে সন্দেহ নেই। বিশেষ করে যারা প্রাত্যহিক কাজের উপর নির্ভরশীল।তবে মানসিকভাবে যারা সবচাইতে বিপর্যস্ত তাঁরা হল স্কুলের ছোট্ট ছোট্ট শিশুরা। তাঁদের খোলা আকাশটাই যেন কোন অজানা অশুভ শক্তি এসে কালো মেঘে ঢেকে দিয়েছে। স্কুলে যাওয়া বন্ধ, নেই বন্ধুদের সাথে মন প্রাণ খুলে চিৎকার। দমবন্ধ করা এক যন্ত্রণাময় বন্দি জীবন তাঁরা কাটাচ্ছে। অথচ পারছে না কিছু বলতে। কারন তাঁরাও জানে বাইরে গেলে বা বন্ধুদের সাথে মেলামেশা করলে বিপদ হতে পারে। তাই মনের সব ইচ্ছেটাকে প্রায় বাধ্য হয়েই মনের কোটরে রেখে দিতে হচ্ছে তাঁদের। এককথায় তাঁদের স্বাভাবিকতা একেবারেই নষ্ট হবার পথে। স্কুলের অনলাইন ক্লাস শিক্ষার ঘাটতি হয়তো কিছুটা পূরন করছে। কিন্তু তাদের শৈশব বা কৈশোরের উদ্দাম চঞ্চলতা কোনভাবেই এনে দিতে পারবে না। তাঁরা সত্যিই আজ সবচাইতে বেশী অসহায়। কোন দোষ না করেও এক অর্থহীন বন্দি জীবন তাঁদের কাটাতে হচ্ছে। ঈশ্বর আর কতদিন তাঁদের এই অব্যক্ত যন্ত্রণার মধ্যে রাখবে জানি না। তবে মানসিকভাবে অবসাদ গ্রস্ত হবার আগেই যেন সবকিছু ঠিক হয়ে যায়। কারন কুঁড়ি থেকে ফুল ফুটতে হলে চাই প্রকৃতির স্বাভাবিক পরিবেশ।