রুহদ্রনীলঃ লিঙ্গ শব্দের সাধারণ অর্থ বলতে আমরা যা বুঝি,শিবলিঙ্গ তা নয়। শিবলিঙ্গের ক্ষেত্রে লিঙ্গ বলতে বোঝায় “প্রতীক” বা “চিহ্ন”। যেখানে শিব হল পরমেশ্বর শিবের নির্গুণ ব্রহ্ম সত্বার একটি প্রতীকচিহ্ন। ধ্যানমগ্ন শিবকে এই প্রতীকের সাহায্যে প্রকাশ করা হয়। হিন্দু মন্দিরগুলিতে সাধারণত শিবলিঙ্গ রূপে শিবের পূজা করা হয়ে থাকে। শিব আত্মধ্যান স্ব-স্বরূপে লীন থাকেন এই লিঙ্গে। আর সব মানুষকেও আত্মনিমগ্ন তথা ধ্যানমগ্ন হতে উপদেশ দেন। “লয়ং যাতি ইতি লিঙ্গম্”– অর্থাৎ যাঁর মধ্যে সমস্ত কিছু লয় প্রাপ্ত হয়, তাই হল লিঙ্গ। লিঙ্গ শব্দটির উৎপত্তি সৎস্কৃত শব্দ “লিঙ্গম্” থেকে যার অর্থ প্রতীক বা চিহ্ন। বাংলায় এই শব্দটি ব্যাকরণ শাস্ত্রে কোনো ব্যক্তি বা বস্তু- পুরুষ, স্ত্রী বা ক্লীব প্রভৃতি চিহ্নিত করতে ব্যবহৃত হয়। শিবলিঙ্গ শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো শিবের মাথা। তবে অজ্ঞতাবশত লিঙ্গ শব্দটি তার অর্থ পরিবর্তন করে বাংলায় পুরুষ জননেন্দ্রিয় অর্থ লাভ করেছে যা বিকৃত এবং অশালীন। শিবের লিঙ্গ সম্পর্কেও সাধারণ মানুষের তাই ধারনা। এক্ষেত্রে তারা এটিকে বাংলায় শিশ্ন শব্দের প্রতিরূপ হিসেবে প্রতিস্থাপিত করেছে। শিবলিঙ্গের উপরে ৩ টি সাদা দাগ থাকে যা শিবের কপালেও বর্তমান। যাকে “ত্রিপুণ্ড্র” বলা হয়। শিবলিঙ্গ যদি কোন জনেন্দ্রিয় বুঝাত তাহলে শিবলিঙ্গের উপরে ঐ ৩ টি সাদা তিলক রেখা থাকত না। শিবলিঙ্গ ৩ টি অংশ নিয়ে গঠিত, সবার নিচের অংশকে বলা হয় “ব্রহ্ম পিঠ”, মাঝখানের অংশ “বিষ্ণুপিঠ“এবং সবার উপরের অংশ “শিবপিঠ“। শিবলিঙ্গ শিবের আদি-অন্তহীন সত্ত্বার মূর্ত প্রতীক। যা এক আদি ও অন্তহীন স্তম্ভের রূপবিশেষ। মহাকাল এক অনাদি অনন্ত লিঙ্গস্তম্ভের রূপে আবির্ভূত যে লিঙ্গ সম্পর্কে স্বয়ং ব্রহ্মা এবং বিষ্ণুও অন্ধকারে। বিষ্ণু বরাহ অবতার রূপে স্তম্ভের নিম্নতল এবং ব্রহ্মা ঊর্ধ্বতল সন্ধানে রত। এই অনাদি অনন্ত স্তম্ভই শিবের অনাদি অনন্ত সত্ত্বার প্রতীক ।
খুব সাধারণ অর্থে বলা যায় শিবলিঙ্গ মহাকালের নিরাকার পরম স্বত্তার প্রতীক। যেখানে তিনি আদি এবং অন্তহীন রূপে বিরাজমান। তাই সাধারন জ্ঞানে আমরা লিঙ্গ অর্থে যা বুঝি। মহাকালের শিবলিঙ্গ সেই অর্থে লিঙ্গ নয়।