নীল বসুঃ কোমরের নীচ থেকে দুটো পা নেই। শরীরটাকে কোনও রকমে টেনে হিঁচড়ে এগিয়ে চলেন। তাঁর পিঠে কালো রঙের ভারী ব্যাগ আর বাঁ হাতে এক গোছা ধূপের বাক্স। ডান হাতটি ট্রেনের মেঝেতে রেখে শরীরের ভারসাম্য রেখে বিক্রি করছেন ধূপ। মুখে বলে যাচ্ছেন হাতে ধরা ধূপের গুণাগুন। দক্ষিন-পুর্ব শাখার লোকাল ট্রেনে হকারি করেই পেট চালান শিবপ্রসাদ মিশ্র। তবে তিনি অন্য হকারদের থেকে একটু আলাদা। কারন তিনি প্রতিবন্ধী হকার কিন্তু সংস্কৃতে এম.এ.।
মেদিনীপুরের গোপগড়ের বাসিন্দা শিবপ্রসাদ মিশ্র। মাত্র ৩ বছর বয়সে দূর্ঘটনায় কোমরের নীচ থেকে তাঁর দুটো পা কাটা যায়। প্রতিবন্ধী শিবপ্রসাদ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন ৫২ শতাংশ নাম্বার নিয়ে। বাবার উপার্জিত অর্থে সংসার চলে না। ভেবেছিলেন সংসার চালানোর জন্য কোনও একটা চাকরি হয়তো জুটে যাবে! কিন্তু বাস্তবটা বড়ই কঠিন। চাকরি পাননি কোথাও। শেষে নিজের অবস্থার কথা জানিয়ে সাহায্য চান মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। তবে কোন লাভ হয়নি। মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও তাঁর অবস্থার কথা জানানো হয়। যদিও চাকরির বদলে জুটেছে একটি সাইকেল। অবশেষে সংসার চালাতে মাত্র ২৬ বছর বয়সে লোকাল ট্রেনে ধূপ বেঁচতে শুরু করেন শারীরিক প্রতিবন্ধী শিবপ্রসাদ।