কাকলী দাস,শিলিগুড়িঃ ভারতের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর মধ্যে ফেসবুকই সবচাইতে জনপ্রিয়৷ করোনা আবহে মানুষ গৃহবন্দি হওয়ায় তাঁরা হয়তো আরও বেশী এই ফেসবুক নির্ভর হয়ে পরেছে। বর্তমানে ব্যক্তিগত তথ্য থেকে শুরু করে যেকোন তথ্যের একমাত্র আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে এই ফেসবুক। শিক্ষা,সাহিত্য,শিল্প, সংস্কৃতি,বিনোদন কি নেই এই ফেসবুকে। তবে কিছু কিছু মানুষের বিকৃত চিন্তা ভাবনার কারনে এই ফেসবুক অনেক সময় রুচিশীল মানুষদের বিরক্তির কারন হয়ে উঠেছে। এই ফেসবুক আসলে সত্যিই “মুখ বই”। তবে মুখের সামনে থাকে মুখোশ। একজন মানুষের ফেসবুক ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পায় তার ব্যক্তিগত প্রোফাইলেই দ্বারা। তাই তারা আসলে যা নয় তা দিয়ে অনেকেই তাদের প্রোফাইলকে জৌলুসময় করে তোলে। যেখানে মানুষ বাস্তবে এক এবং ফেসবুকে আর এক। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশই হল তরুণ প্রজন্ম। তাঁরা প্রধানত এটিকে পারস্পরিক সম্পর্কের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করলেও বিভিন্ন পেজ এবং তাদের ছোট ছোট স্ট্যাটাস দ্বারা তাঁরা বিশেষ ভাবে প্রভাবিত হয়। আর এর ফলেই ফেসবুকের নেতিবাচক দিকটি প্রকট হয়ে ওঠে। অতি নিম্নমানের স্ট্যাটাসকে ঘন ঘন শেয়ার করে তাঁরা সেই বিষয়টিকে করে তোলে জনপ্রিয়। কোন কোন ক্ষেত্রে আবার অনেকে অকারনেই ফেসবুকে আসক্ত হয়ে পড়ে। কোন লাইক কমেন্ট না থাকলেও প্রতিনিয়ত অর্থহীন ভাবে কিছু না কিছু শেয়ার করবার প্রবণতাও দেখা যায়। এটি একধরনের মানসিক সান্ত্বনা হলেও পরবর্তীতে মানসিক বিকৃতিতে পরিনত হয়।
বর্তমানে ফেসবুকে লাইভ ভিডিও এর সুযোগ থাকায় অনেকেই এই ফেসবুকে লাইভ এর মাধ্যমে হয়ে উঠছেন তথাকথিত সেলিব্রেটি৷ শুধু তাই নয় ফেসবুকে কার কত ফলোয়ার্স রয়েছে তা নিয়েও চলে প্রতিযোগিতা৷ তারা ভুলে যায় ফেসবুকের বাইরেও একটা জগৎ আছে। সেখানে এই লাইক এবং ফলোয়ার্স অর্থহীন।
ফেসবুকের আরও একটি বিষয় হল অন্যকে নিয়ে মজা করা। যাকে বলা হয় ট্রল করা। যা একসময় এমন অবস্থায় চলে যায়, তাতে যাকে নিয়ে ট্রল করা হয় তাঁর জীবন হয়ে ওঠে ব্যতিব্যস্ত। আসলে কিশোর কিশোরী বা যুবক যুবতীদের একটা বড় অংশ মানসিকভাবে অস্থির৷ তাঁদের অনেকেই এখন আর গল্প উপন্যাস পড়তে জানে না বা সেই ধৈর্য্যও তাদের নেই। সেকারণেই এক-দুই লাইনের সহজ সরল স্ট্যাটাসের মাধ্যমে নিজেকে জ্ঞানী প্রকাশ করবার প্রয়াস চালিয়ে যায়। আবার অনেকে তাদের ব্যক্তিগত প্রেম আর আবেগ প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে এই ফেসবুককে বেছে নেয়। যার মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের মনের ব্যক্তিগত অবস্থা তুলে ধরবার চেষ্টা করে। আবার মজার বিষয় হল অনেকে তো না বুঝে বা না পড়েই অনেক স্ট্যাটাস লাইক এবং শেয়ার করে দেয়৷ আবার অনেকের কাছে শেরার করাটা একটা অর্থহীন নেশার মতো। এক্ষেত্রে তারা যদি শেয়ার না করে নিজের মন থেকে কিছু লিখে বা কোন নতুন কিছু তুলে ধরে তবে সেটা হতো উদ্ভাবনশীল চিন্তা। যদিও এই ফেসবুকে এমন প্রতিভা খুবই কম। তাই এই সাধারন মানসিকতাদের কাছে শেয়ার করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। তবে এই অস্থিরতার কারণ শুধু ফেসবুক নয়৷ এর জন্য দায়ী তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন এবং সেই সাথে আমাদের সমাজের অস্থিরতা।