মৃত্যুঞ্জয় রুদ্রঃ জেনে নিন কিডনি খারাপ হওয়ার কয়েকটি লক্ষণ। কিডনি বা বৃক্ক আমাদের দেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কিডনি ক্ষতিগ্রস্থ হলে আমাদের দেহে খুব নীরবে অন্যান্য সমস্যা শুরু হয়ে যায়। তবে খুব জটিল অবস্থা না হওয়া পর্যন্ত সাধারণত এই লক্ষণগুলো ভালোভাবে প্রকাশ পায় না। তাই কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো আগে থেকেই জেনে রাখা সকলের জরুরি।

প্রস্রাবে পরিবর্তনঃ
কিডনি রোগের একটি বড় লক্ষণ হলো প্রস্রাবে পরিবর্তন হওয়া। কিডনির সমস্যা হলে প্রস্রাব বেশি হয় বা কম হয়। বিশেষত রাতে এই সমস্যা বাড়ে। প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়। অনেক সময় প্রস্রাবের বেগ অনুভব হলেও প্রস্রাব হয় না।
প্রস্রাবের সময় ব্যথাঃ
প্রস্রাবের সময় ব্যথা হওয়া কিডনির সমস্যার আরেকটি লক্ষণ। মূলত প্রস্রাবের সময় ব্যথা, জ্বালাপোড়া- এগুলো ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের লক্ষণ। যখন এটি কিডনিতে ছড়িয়ে পড়ে তখন জ্বর হয় এবং পিঠের পেছনে ব্যথা করে।
প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়াঃ
প্রস্রাবের সাথে রক্ত গেলে এটি খুবই ঝুঁকির বিষয়। এমন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এটি কিডনি রোগের অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি লক্ষণ।
দেহে ফোলা ভাবঃ
কিডনি শরীর থেকে বর্জ্য এবং বাড়তি জল বের করে দেয়। কিডনিতে রোগ হলে এই বাড়তি জল বের হতে সমস্যা হয়। বাড়তি জল শরীরে ফোলাভাব তৈরি করে।
কোন কাজে মনোযোগে অসুবিধাঃ
কিডনি খারাপ হলে দেহে লোহিত রক্তকণিকা কমে যায়, এর ফলে মস্তিস্কে অক্সিজেন পরিবহনও কমে যায়। ফলে যেকোন কাজে মনোযোগ দিতে অসুবিধা হয়।
সবসময় শীত অনুভব হওয়াঃ
কিডনি রোগ হলে গরম আবহাওয়ার মধ্যেও শীত অনুভব হয়। কিডনিতে সংক্রমণ হলে জ্বরও আসতে পারে।
ত্বকে র‍্যাশ হওয়াঃ
কিডনি নষ্ট হয়ে পড়লে রক্তে বর্জ্য পদার্থ বাড়তে থাকে। এটি ত্বকে চুলকানি এবং র‍্যাশ তৈরি করতে পারে।
বমি বা বমি বমি ভাবঃ
রক্তে বর্জ্যনীয় পদার্থ বেড়ে যাওয়ায় কিডনির রোগে বমি বমি ভাব পায় এবং বমি হওয়ার সমস্যা হতে পারে।
ছোটো ছোটো শ্বাসঃ
কিডনি রোগে ফুসফুসে তরল পদার্থ জমা হয়। এ ছাড়া কিডনি রোগে শরীরে রক্তশূন্যতাও দেখা দেয়। এসব কারণে শ্বাসের সমস্যা হয়, তাই কিডনি রোগের অন্যতম লক্ষন ছোট ছোট করে শ্বাস নেওয়া।
পেছনে ব্যথাঃ
কিছু কিছু কিডনি রোগে শরীরে ব্যথা হয়। পিঠের পাশে এবং নিচের দিকে ব্যথা হয়। এটিও কিডনি রোগের একটি অন্যতম লক্ষণ।

ক্ষুধা চলে যাওয়াঃ

কিডনি খারাপ হবার অন্যতম লক্ষণ খিদে না পাওয়া।
ব্লাড প্রেশার বেড়ে যাওয়াঃ
কিডনি রোগের অন্যতম লক্ষন ব্লাড প্রেসার বেড়ে যাওয়া।এর ফলে মাথার পেছনে ব্যাথা অনুভব হয়।

এধরনের লক্ষণ গুলো থাকলে দুটো টেস্ট করালে নিশ্চিত হওয়া যায় কিডনি সত্যি সত্যিই খারাপ হয়েছে কিনা। আর সেই দুটো টেস্ট হলো ব্লাড ইউরিয়া এবং সিরাম ক্রিয়েটিনিন। এই দুটো নর্মাল থাকলে মনে করবেন আপনার কিডনি ঠিক আছে।