মৃত্যুঞ্জয় রুদ্রঃ “মহালয়া”কথাটির অর্থ কি আর কেনই বা আজকের দিনে পূর্ব পুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পন করা হয় ?
সাধারণ মতে পিতৃপক্ষের অবসান লগ্ন এবং দেবীপক্ষের পূর্ববর্তী সময়কে বলে “মহালয়া”। আবার “মহ” শব্দটির দুটি অর্থ রয়েছে। একদিকে “মহ” বলতে বোঝায় পূজা, আবার অন্যদিকে “মহ” বলতে বোঝায় “উৎসব।” যদিও মহালয় শব্দটির সন্ধিগত অর্থ দাঁড়ায় “মহান + আলয় = মহালয়।” এখানে আলয় শব্দটির অর্থ হল “আশ্রয়।” আবার “মহালয়” বলতে, ‘পিতৃলোককেও” বোঝায় যেখানে বিদেহী পিতৃপুরুষ অবস্থান করছেন। আর সেই অর্থে পিতৃলোককে স্মরণের অনুষ্ঠানকেই বলে “মহালয়া”। পিতৃপক্ষের অবসানে, অন্ধকার অমানিশার সীমানা ডিঙিয়ে আমরা যখন আলোকময় দেবীপক্ষের আগমনকে প্রত্যক্ষ করি তখনই সেই মহা লগ্নটি আমাদের জীবনে ‘মহালয়ার’ বার্তা বহন করে নিয়ে আসে। এক্ষেত্রে স্বয়ং দেবীই হলেন সেই “মহান আশ্রয়”। তাই তাঁর উত্তরণের এই লগ্নটির নাম “মহালয়া।”
মহালয়ার আরও একটি বড় গুরুত্ব হল। ত্রেতা যুগে ভগবান শ্রীরামচন্দ্র অকালে দেবীর পূজা করেছিলেন লঙ্কা জয় করে স্ত্রী সীতাকে উদ্ধারের জন্য। আসলে দূর্গাপূজা হয় বসন্তকালে। আর তাকে আমরা বলি “বাসন্তি পূজা”। ভগবান শ্রীরামচন্দ্র অকালে এবং অসময়ে দেবীর পূজা করেছিলেন বলে শরতের এই পূজাকে বলা হয় “দেবীর অকাল-বোধন।” সনাতন ধর্মে প্রয়াত পূর্ব-পুরুষদের অর্থাৎ পরলোকগত পিতা-মাতাসহ পূর্ব-পুরুষদের খুশী করবার জন্য এবং সেই সাথে সমগ্র জীব-জগতের মঙ্গলের জন্য তর্পণ করা হয়। এখানে “তর্পণ” শব্দের অর্থ খুশি করা। ভগবান শ্রীরাম লঙ্কা বিজয়ের আগে এইদিনে এমনই করেছিলেন। সেই অনুসারেই এই মহালয়া তিথিতে যারা পিতৃ-মাতৃহীন তাঁরা তাঁদের পূর্বপুরুষদের খুশী করে স্মরন করে এবং পূর্বপূরুষের আত্নার শান্তি কামনা করে অঞ্জলি প্রদান করেন। সনাতন ধর্ম অনুসারে এই দিনে সকল প্রয়াত আত্মাদের মর্ত্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আর তাঁদের উদ্দেশ্যে এই শুভ লগ্নে তাদের খুশী করা হয়। প্রয়াত পূন্যাত্মাদের এই সমাবেশকেই বলা হয় “মহালয়।”