মণিমালা দাসঃ মহালয়ার একাল এবং সেকাল। অর্থাৎ দুই প্রজন্মের তুলনাকে তুলে ধরে তৈরি স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি “বোধোদয়“। স্বল্প দৈর্ঘের এই ছবিটি তৈরী করেছেন শিলিগুড়ির দুই তরুণ পরিচালক দীপ সাহা ও সায়ন। বর্তমানে নতুন প্রজন্ম মানেই অত্যাধুনিক আচার আচরণে অভ্যস্ত।তাঁদের ব্যবহারে খুব কম থাকে ভদ্রতার ছোঁয়া। তাঁরা বড়দের সম্মান দিতে ভুলে যায়। এই ধারণা যে ঠিক নয় এবং এখনও যে কিছু ভালো তরুণ-তরুণী এই সমাজে রয়েছেন সেটাই তুলে ধরা হয়েছে এই স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবিতে। ছবির প্রেক্ষাপট সত্তর বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে নিয়ে। এই প্রজন্মের সাথে যার কোন যোগাযোগ নেই। একাকিত্ব জীবনকে আকড়ে তাঁর বেঁচে থাকা। বাড়ি থেকে বেরোলেই পাড়ার উঠতি ছেলেরা তাঁকে নানাভাবে কটূক্তি করে। আর তা হজম করতে হয় বিষন্ন হৃদয়ে। মহালয়ার আগের দিন ঘরের কোনে লুকিয়ে থাকা রেডিওটা বের করে সারাই করতে হবে বলে তিনি বের হন রেডিওটি নিয়ে। ঘর থেকে বের হতেই পাড়ার কিছু যুবক তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। রেডিও সারাই হবে না বলে হাসি ঠাট্টাও করে। গম্ভীর মুখে তিনি সেখান থেকে দোকানে গেলেও মেকানিক জানিয়ে দেয় রেডিও সারাই হবে না। এদিকে রাত পোহালেই মহালয়া। বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের সেই কণ্ঠ এবারে আর তিনি শুনতে পারবেন না। এই ভেবে তাঁর মন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে।
পরদিন মহালয়ার সকালেই সেই যুবকেরাই হাজির তাঁর ঘরে। সাথে সারপ্রাইজ। মূহূর্তে ভুল ভাঙলো তাঁর। তিনি ভুল ভেবেছিলেন। সমাজের এখোনো অবক্ষয় হয়নি। অর্থাৎ নতুন প্রজন্মের সকলে খারাপ নয়। ভালো মনের কিছু ছেলে-মেয়েও রয়েছে। আর এটাই হল বোধোদয়। আগে মহালয়ার অর্থ ছিল ভিন্ন। যেখানে সংস্কৃতিকে ঘিরে ছিল উৎসব। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের কাছে মহালয়া মানেই রাত জেগে পিকনিক আর হৈ হল্লা। এই যে দু’প্রজন্মের মধ্যে পার্থক্যকেই তুলে ধরা হয়েছে এই ছবিতে।
ছবির শ্যুটিং হয়েছে শিলিগুড়ির বিভিন্ন প্রান্তে। গজলডোবা, গুলমা চা বাগান, ঘোগোমালি বাজার এবং শহরেরই তিলক সাধু মোড় এর মতো স্থানে হয়েছে শুটিং। ১০ থেকে ১২ জনের টিম এই শুটিং এ কাজ করেছে। এর আগেও শিলিগুড়িতে স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি তৈরী হয়েছে। তবে এই ছবিটি মন কেড়ে নেয়। নতুন প্রজন্মের হাত ধরে শিলিগুড়িতে এমনই আরও কিছু নতুন ছবি দেখার আশায় রইলাম আমরা।