সুস্মিতা সরকারঃ একমাত্র মেয়েকে বি.সি.এস ক্যাডার বানানোর স্বপ্ন দেখে নিজের বাড়িঘর ছেড়ে শহরে ট্রাকচালান আবুল কামাল। মেয়ের স্বপ্ন পূরণে তিনি দিন-রাত কাজ করেন। কিন্তু হঠাৎ খবর আসে তাঁর মেয়ে আর নেই। ছুটে যান গ্রামের বাড়িতে। মেয়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে এখন মেয়ের কবরের পাশেই অনশনে বসেছেন তিনি।

ঘটনাটি বাংলাদেশের বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের চর গঙ্গাপুরের। সেখানে মাদ্রাসা স্কুলের নবম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী আবুল কামালের একমাত্র মেয়ে ফারজানা আক্তার। যে কিছু স্থানীয় মানুষের প্ররোচনায় আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়।

গ্রামের বাড়িতে দাদির কাছেই থাকত ফারজানা। গরিব আবুল কালামের স্বপ্ন ছিল মেয়েকে উচ্চ-শিক্ষায় শিক্ষিত করে বিসিএস ক্যাডার বানানোর। আর তাই গ্রামের বাড়ি ছেড়ে স্ত্রী’কে নিয়ে ঢাকায় গিয়ে ট্রাকচালকের কাজ নেন। মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে ছুটে আসেন গ্রামের বাড়িতে। পরদিন বোরহানউদ্দিন থানায় ৭ জন আসামির বিরুদ্ধে তিনি তার মেয়েকে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেন। আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে মেয়ের কবরের পাশে অনশনে বসেছেন আবুল কালাম। তিনি জানান, মেয়ের এমন মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি। আসামিরা তার কন্যা ফারজানাকে প্রতিনিয়ত নির্যাতন করে তাকে চরিত্রহীন অপবাদ দিয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ায় বাধ্য হয়ে সে আত্মহত্যা করেছে। এই অবস্থায় কন্যার মৃত্যুর জন্য দায়ী দোষীদের শাস্তির দাবিতে পিতা আবুল কালাম মেয়ের কবরের পাশেই অনশনে বসেছেন।