সঙ্গীতা বর্মনঃ রকেটের গতিতে উত্থান আর তারপরই ছন্দপতন। কোথায় গেল সেই রাণু মন্ডল ? পরপর একাধিক বিতর্কে জড়িয়ে ‘রানাঘাটের লতাকে হঠাৎই সবাই ভুলে গেল। লাইমলাইটে যাওয়ার সাথে সাথে রাণাঘাটের পুরনো বাড়ি ছেড়ে নতুন বাড়িতে উঠে যান রাণু মণ্ডল। কিন্তু লকডাউনের আগে ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ জানা যায়, নতুন বাড়ি ছেড়ে আবার পুরনো বাড়িতেই ফিরে গিয়েছেন রাণু। অনেকে বলেন, ইদানীং নাকি আর তেমন কাজ পাচ্ছেন না রাণু। তাই মিডিয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন না। বলা যায়, মিডিয়াও তার প্রতি বিমুখ হয়ে পড়েছেন। রাতারাতি তারকা হয়ে কয়েক ঘণ্টায় খ্যাতির শীর্ষে পৌছে গিয়েছিল স্টেশনে পড়ে থাকা রাণু মন্ডল। মিডিয়ার সমস্ত ফোকাস ছিল তাঁরই দিকে। সেখান থেকে আচমকা কোথায় গেলেন তিনি ? অনেকে মনে করেন অতিরিক্ত অহঙ্কারই কাল হল রাণুর। নাম-ডাক হওয়ার পর তার অ্যাটিটুড-ই বদলে যায়। ফ্যানেদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে শুরু করেন তিনি। যেমন গত ডিসেম্বরে কাতারে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিজস্ব সংগঠন আমন্ত্রণ জানায় রাণুকে। সেখানে হিমেশ রেশমীয়া নিজেও উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা শিল্পীদের নিয়ে যান একটি শপিং মলে। ভিতরে এক বাঙালি মহিলা সেলফি তোলার জন্য পিছন থেকে রানুর ঘাড়ের কাছে টোকা দেন। আর তাতেই ভয়ঙ্কর চটে যান রাণু মন্ডল। প্রকাশ্যে সেই ফ্যানকে অপমান করেন রাণু মণ্ডল। এর ফলে নেটিজেনরা রাণুর প্রতি বিরক্ত হয়ে ওঠেন। যে ফ্যানেরা তাঁকে ভবঘুরে থেকে তারকা বানিয়েছেন, তাঁদেরই আজ রাণু মন্ডল ভুলে গেলেন? ফ্যানের প্রতি এই খারাপ ব্যবহারে ক্ষুব্ধ হন স্বয়ং হিমেশও। শোনা যায় তিনি রানুর এক ঘনিষ্ঠের কাছে বলেন -“একজন ফ্যানের সঙ্গে এমন আচরণ করা মোটেই ঠিক কাজ হয়নি রাণুর। ‘সরি’ বলা উচিত ছিল।’ কিন্তু রানু হিমেশের কথায় পাত্তাই দেননি, কোনও দুঃখপ্রকাশও করেননি।
কথায় আছে যে মানুষ যে জায়গার, সে সেই জায়গার আচার-ব্যবহার বদলাতে পারে না। তা সে যতই নিজেকে উঁচুতে রাখুক। নীচ থেকে উপরে উঠে অহংকারী হয়ে উঠলে তাকে আবার নীচে নেমে আসতে হয়। নিজে অবস্থান বুঝে অহংকার করা উচিৎ। রাণুর এই মনোভাবই তার পতনের কারন।