রুহদ্রোনীল পালঃ যিনি বলেন “লজ্জা লাগা দরকার” যার এই বাক্য রীতিমতো সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। আজ তাকেই লজ্জায় ফেলে দিলেন আর এক তৃণমূল নেতা। দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মন্ডলের বিরুদ্ধে এবার একাধিক বিষয়ের অভিযোগ আনলেন তৃণমূলের আর এক নেতা নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন হাটে মাগুর মাছ বেঁচে জীবিকা নির্বাহ করা অনুব্রত মণ্ডল এখন কোটি টাকার মালিক হলেন কী করে? দলের বীরভূম জেলা সভাপতি তথা দাপুটে নেতার বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ করে এমনই দাবি করেছেন তৃণমূল নেতা নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়। যা নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গুসকরা পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়কে মঙ্গলবার দুপুরে গুসকরার স্কুল মোড় থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার করা অভিযোগের ভিত্তিতে নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারের পরেও তৃণমূল নেতা নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের মুখে শোনা গিয়েছে অনুব্রত মন্ডলের বিরুদ্ধে হুমকির সুর। তিনি বলেছেন, “কেষ্ট মণ্ডল নিজেকে মুখ্যমন্ত্রীর থেকেও বড় ভাবে। হাটে মাগুর মাছ বেঁচত। এখন এত কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি হল কোথা থেকে?” একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন – “কী করে কেষ্ট মণ্ডলের মেয়ে একসঙ্গে দু’জায়গায় চাকরি করে?” অনুব্রত মণ্ডলকে হুমকি দেওয়ার অপরাধে তৃণমূল নেতা নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন গুসকরার তৃণমূল নেতা শেখ সুজাউদ্দিন। হুমকি দেওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন নিত্যানন্দবাবু। তাঁর কথায়, “অনুব্রত মণ্ডলের স্ত্রী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেই সময়ে স্ত্রী-র চিকিৎসার জন্য ২০ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন অনুব্রত। সেই টাকা এখন আর ফেরত দিচ্ছেন না। সেই সঙ্গে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করছেন। তাই হুমকি দিয়েছিলাম।” গ্রেফতারের পরেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন তৃণমূল নেতা নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, “বিপদের সময় টাকা ধার দিলাম। আর এখন বলছে প্রমাণ কই? আমি যেদিন জামিন পাব সেদিন গিয়ে কেষ্ট মণ্ডলের কলার ধরব।” দলের নেতাদের কারণে গ্রেফতার হওয়ার প্রসঙ্গে নিত্যানন্দবাবু বলেছেন, “এরা দলের লজ্জা।”
যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। তিনি বলেছেন, “আমি নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের কাছ থেকে কোনও টাকা নিইনি। ওর কাজই সবাইকে হুমকি দেওয়া। ওর এসব পাগলামো।”