মৃত্যুঞ্জয় রুদ্রঃ বাংলার ফিনান্সিয়াল ডিপার্টমেন্টে কর্মরত এক যুবক কর্মসুত্রে দার্জিলিং-এ এসে এখানেও “অনুশীলন সমিতির” সক্রিয় শাখা স্থাপন করেছিলেন। শিলিগুড়িকে জড়িয়ে সেই যুবকের একটি রোমাঞ্চকর ঘটনা। ১৯০৮ সালের এপ্রিল মাস। স্থান শিলিগুড়ি টাউন স্টেশন। ক্যাপ্টেন মার্ফি ও লেফটেন্যান্ট সমারভিল সহ আরও চারজন সামরিক অফিসারের সাথে সেই যুবকের শুরু হয় বচসা। ইন্ডিয়ান নেটিভ যুবক, তাই ইংরেজ সাহেব শুরু করেন ব্যঙ্গ বিদ্রুপ এবং অসভ্য আচরণ। কিন্তু পরিবর্তে যে এমন প্রতিক্রিয়া আসবে তা ইংরেজ সাহেবরা কল্পনাও করতে পারেনি। সেই যুবকের সাথে সাহেবদের শিলিগুড়ি টাউন স্টেশনে শুরু হয় হাতাহাতি। অবশেষে চারজনের চোয়াল ভেঙ্গে তাদের ধরাশায়ী করে দিয়েছিল সেই বীর যুবক। সেই যুবকের নামে মামলা রুজ্জু হলে দেশ জুড়ে হৈ-চৈ পড়ে যায়। বিভিন্ন সংবাদপত্রে এই নিয়ে লেখালেখি শুরু হলে অপমানিত ব্রিটিশ সরকার চাপে পড়ে মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। শুধুমাত্র ঠাট বজায় রাখতে ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব যুবককে শাসিয়ে বলেন -“এমনটি আর যেন আর না ঘটে!” বুকফুলিয়ে যুবক জবাব দেন “নিজের সম্মান বা দেশবাসীর সম্মান বাঁচাতে এমনটি যে আবার করব না, একথা আমি শপথ করে বলতে পারছি না ।”
তৎকালীন এক ইংরেজ পদস্থ অফিসার হুইলার ঠাট্টা করে সেই যুবককে জিজ্ঞাসা করেন -“আচ্ছা, একা হাতে ক’টা লোককে আপনি শায়েস্তা করতে পারেন?” যুবক হেসে উত্তর দিয়েছিল- “ যদি ভাল মানুষ হয়, তবে একটাও নয়; কিন্তু খারাপ মানুষ হলে যতগুলি খুশী সামলাতে পারব।”
জানেন কি ? কে এই যুবক?
তিনি আর কেউ নন, বাংলার বীর বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ মুখার্জি। যাকে আমরা চিনি “বাঘা যতীন” নামে। আর তাঁকে সন্মান জানাতেই আমাদের শিলিগুড়ি শহরে তাঁর নামে গড়ে উঠেছে পার্ক, কলোনী, ক্লাব সহ একাধিক স্মৃতিচিহ্নিত স্থান। শিলিগুড়িবাসী হিসেবে আমরা গর্ব করতেই পারি। তাই না?