রুহদ্রোনীল পালঃ উত্তরপ্রদেশের হাথরসের ১৯ বছর বয়সী দলিত মেয়ের ধর্ষণের ঘটনা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে সরকার এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। এরই মাঝে চিকিৎসকদের দেওয়া ময়না তদন্তের রিপোর্ট আমাদের সকলকে অবাক করে দিল। মুখ থেকে শুধু একটি শব্দই এখন বের হচ্ছে আর তা হল- ” ছিঃ”।
হাথরসের নির্যাতিতার ময়না তদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে এই দুটি পয়েন্ট।
১) গলায় ফাঁসের দাগ,
২) শ্বাসরোধ করে খুন। আবার বলা হয়েছে মেরুদন্ডে আঘাত।
কিন্তু চিকিৎসকরা কোথাও উল্লেখ করেননি যে দলিত মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ময়না তদন্তের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট নিয়ে ইতিমধ্যে অবাক গোটা দেশ। উত্তরপ্রদেশের হাথরসের ১৯ বছর বয়সী দলিত মেয়ের ধর্ষণের ঘটনা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। রাতের অন্ধকারে নির্যাতিতার দেহ চুপিসারে দাহ করেছে পুলিস। কার নির্দেশে এমনটা করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আর এরই মধ্যে ময়না তদন্তের এমন রিপোর্ট নতুন করে দিল বিতর্ক।
১৪ দিন লড়াই করেও জীবনযুদ্ধে হেরে যান হাথরসের নির্যাতিতা। আলিগড়ের জওহরলাল নেহরু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে দিল্লি সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু বাঁচানো যায়নি। পুলিসের রিপোর্টে উল্লেখ ছিল, ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টা করা হয় ওই তরুণীকে। ধস্তাধস্তির সময় তাঁর জিভের একাধিক জায়গায় ক্ষতের সৃষ্টি হয়। দুটি পা ও একটি হাতে কোনও সাড় ছিল না বলেও জানান চিকিৎসকরা। মৃত্যুর আগে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া বয়ানেও ধর্ষকদের নামও বলে গিয়েছেন সেই তরুণী। কিন্তু ময়না তদন্তের রিপোর্টে ধর্ষণের কোনও উল্লেখই নেই – কি অদ্ভুত তাই না!!! ইতিমধ্যে অবশ্য চার অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিস। জানা গিয়েছে, চারজনই তথাকথিত উচ্চবর্ণের। তাই বিভিন্ন ভাবে তারা তাদের প্রভাব খাটাচ্ছে। যদিও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ৩০৭ ও ৩৭৬ ডি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।