সুস্মিতা সরকারঃ সন্তানের অস্ত্রোপচার করেছিলেন নিজের হাতে, মেয়েকে বাঁচাতে না পেরে অবশেষে আত্মঘাতী হলেন চিকিৎসক। গত বৃহস্পতিবার তাঁর বাড়ি থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। বাড়ির বাথরুমের দেওয়ালে ‘সরি’ লিখে তিনি আত্মহত্যা করেন। নিজের হাতের উপর দিয়েই মরে গিয়েছিল তার ছোট্ট মেয়েটি। এই চরম হতাশা সহ্য করতে পারেননি পঁয়ত্রিশের চিকিৎসক ডাঃ অনুপ কৃষ্ণ। আর তার সাথে পাওনা হিসাবে জুটেছিল, লোকের গালমন্দ, কটূক্তি এবং নোংরা ভাষায় তীব্র আক্রমণ। একজন চিকিৎসক হয়েও নিজের সন্তানকে হারানোর যন্ত্রণা, তার উপর মানুষের তীব্র আক্রমণ, স্থির থাকতে পারেননি ডাঃ অনুপ কৃষ্ণ। শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন তিনি। গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিজের সাত বছরের মেয়ের অস্ত্রোপচার করেছিলেন তিনি। তাঁর মেয়ের হাঁটুর অস্ত্রোপচার হয়েছিল। সে সময়ই কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে মেয়ের মৃত্যু হয়। শিশুটিকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও বাঁচানো যায়নি। বাবার তত্ত্বাবধানেই মেয়ের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে প্রবল সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়। অনেকে বলেন বাবা নিজেই তার মেয়েকে খুন করেছেন। আবার কেউ কেউ অনুপকে ‘অপরাধী’ বলতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত গত বৃহস্পতিবার কোল্লাম জেলার কাদাপ্পাকাড়াতে তাঁর বাড়ির বাথরুমের দেওয়ালে ‘সরি’ লিখে আত্মহত্যা করেন ডাঃ অনুপ কৃষ্ণ। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

ডাঃ অনুপ কৃষ্ণা