পিয়ালী সরকারঃ উত্তরপ্রদেশের হাথরসে ধর্ষণ ও খুনের অপরাধীর খোঁজ না করে তার আগেই নির্যাতিতা মেয়েটির মৃতদেহ লুকিয়ে রাতের অন্ধকারে সৎকার করেছিল পুলিস-প্রশাসন। আর তা নিয়ে দেশ জুড়ে সৃষ্টি হয় ব্যাপক বিতর্ক। নির্যাতিতার পরিবারের লোকজনকেও তাঁদের মেয়ের দেহ শেষবার জন্য দেখতে দেওয়া হয়নি। অবশেষে এলাহাবাদ হাই কোর্টে রাতের অন্ধকারে নির্যাতিতার দেহ পোড়ানোর সম্পূর্ণ দায় নিলেন হাথরসের জেলাশাসক পরভিন কুমার লক্সর। তিনি জানান প্রশাসনের কাছে গোপন সূ্ত্রে খবর ছিল, কেউ বা কারা এই ঘটনাকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। এছাড়া জাতপাতের বৈষম্য নিয়েও উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা ছিল। তাই তিনি তড়িঘড়ি দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে জানালেন।
শুধু তাই নয় হাথরসের জেলাশাসক আরও বলেন নির্যাতিতার দেহে পচন ধরা শুরু হয়েছিল। আর বেশিক্ষণ দেরি করলে দেহ থেকে দুর্গন্ধ বের হত। তাই তিনি দেহ সৎকারে বিলম্ব করেননি। যদিও জেলাশাসকের এই বক্তব্য নস্যাৎ করে দিয়েছেন নির্যাতিতার আইনজীবী সীমা কুশওয়াহা। তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেছেন, তবে কেন নির্যাতিতার দেহ তাঁর বাড়ির লোকদের একবারের জন্যও দেখতে দেওয়া হয় নি! তবে কি পুলিস-প্রশাসন সেদিন সত্যিই কিছু লুকোচ্ছিল ?
এলাহাবাদ হাইকোর্টের লক্ষ্ণৌ বেঞ্চ উত্তরপ্রদেশ পুলিশকেও ভৎসনা করতে ছাড়েনি। সোমবার বিচারক পঙ্কজ মিথাল এবং রঞ্জন রায় এর বেঞ্চ উত্তরপ্রদেশের পুলিশের এক কর্তাকে প্রশ্ন করেন “আপনার মেয়ে হলে এভাবে সৎকার করতে পারতেন ? ” এর কোন উত্তর তারা দিতে পারে নি। জেলাশাসক এর সাথে এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন উত্তর প্রদেশে পুলিশের ডিজিপি।