রুহদ্রোনীল পালঃ গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে সামসুদ্দিনকে গ্রেফতার করেছিল পাক প্রশাসন। শত্রু ভেবে জেলে তাঁর উপর চলেছে অকথ্য মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার। উল্লেখ্য ১৯৯২ সালে ৯০ দিনের ভিসা নিয়ে ভারত থেকে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন সামসুদ্দিন। এরপর ১৯৯৪ সালে সেখানেই পাকাপাকিভাবে বসবাস করতে শুরু করেছিলেন। পেয়েছিলেন পাকিস্তানের নাগরিকত্বও। কিন্তু ২০১২ সালে গুপ্তচর সন্দেহে তাঁকে গ্রেফতার পাক সরকার। তারপর থেকে করাচি জেলই ছিল তাঁর একমাত্র ঠিকানা। সেখানে জেলবন্দিদের কটূ কথা ও মানসিক যন্ত্রণায় প্রায় পাগল হয়ে গিয়েছিল সে। তাকে নানা ভাবে অত্যাচার করতো জেলের পুলিশ এবং অন্যান্য কয়েদিরা।
অবশেষে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে গত ২৬ অক্টোবর তিনি পাকিস্তান জেল থেকে ছাড়া পান এবং আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। করোনা বিধি মেনে তাঁকে অমৃতসরে কোয়ারিন্টাইন পর্ব কাটাতে হয়। সেখানে বাজারিয়া পুলিশের সার্কেল অফিসার ত্রিপুরারি পান্ডে তাঁকে সানন্দে অভিনন্দন জানিয়ে মিষ্টিমুখও করান। এরপর কানপুরের কাংঘি-মোহলে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দেয় পুলিশকর্মীরা। সেখানে তাঁর আগমনে গোটা গ্রাম উত্‍সবে মেতে ওঠে। পরিবার ও গ্রামবাসীরা তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়। কয়েক বছর অমানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়ে নিজের গ্রামের বাড়িতে ফিরে এসে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন সত্তর বছর বয়সী সামসুদ্দিন। তিনি জানান পাকিস্তানিরা ভারতীয়দের খুবই খারাপ চোখে দেখে। একেবারেই ভালো ব্যবহার করে না তাঁরা। শত্রুপক্ষ ভেবেই তাঁরা ভারতীয়দের সাথে সবসময় কথা বলে।