মৃত্যুঞ্জয় রুদ্রঃ আজ উত্তরবঙ্গের একটি জনবহুল সংবাদপত্রে উত্তরবঙ্গে আর্ট কলেজ এবং আর্ট গ্যালারির দাবি জানিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর জন্য সংবাদপত্রকে আমরা সাধুবাদ জানাই। কারণ এই দাবি নতুন নয়, এই দাবি দীর্ঘদিনের। তবে এখনো কেন সরকার স্বীকৃত একটি আর্ট কলেজ উত্তরবঙ্গ পেল না? এর কারণ লুকিয়ে আছে আজকে প্রকাশিত প্রতিবেদনেই ভেতরেই। শিলিগুড়ি থেকে ডুয়ার্স উত্তরবঙ্গে কিন্তু প্রতিভাবান চিত্রশিল্পী এবং ভাস্কর্য শিল্পীর অভাব নেই। অভাব শুধু উদার মানসিকতার। যা এখানে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। “আমি এবং আমার ” – এই আত্মকেন্দ্রিক মানসিকতা এখানকার শিল্পীদের আজ পর্যন্ত এক ছাতার নীচে আনতে পারেনি। আর এই “অহং ভাবনাই” আর্ট কলেজ তৈরীর পথে প্রধান প্রতিবন্ধকতা। যারা আর্ট কলেজ নিয়ে আজ গলা সাধছেন তাদেরই একাংশ মনে করেন শিলিগুড়িতে প্রকৃত শিল্পী একমাত্র তাঁরাই। উত্তরবঙ্গের শিল্প চর্চার ধারক এবং বাহক শুধু তাঁরাই। বাকিদের শিল্পের কোন গভীরতাই নেই বা অত্যাধুনিক শিল্প চর্চার কোন অভিজ্ঞতা নেই। এই একপেশে ভ্রান্ত ধারনাই উত্তরের শিল্প এবং শিল্পের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। ফলে ভিন্ন ভিন্ন নামে গড়ে উঠেছে অসংখ্য শিল্প সংগঠন। আর তারা নিজেদের মধ্যেই এক ঠান্ডা সংঘর্ষে ব্যস্ত। আপনারা অবাক হবেন এই কথা শুনে যে শিলিগুড়িরই এক শিল্প সংগঠন এমন স্বীকারক্তিও দিয়েছেন যে আমাদের সংগঠনে থাকতে হলে অন্য সংগঠন থেকে নাম কাটাতে হবে। এই শিশুসুলভ ভাবনা নিয়ে অঙ্কন মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন হাস্যকর নয় কি ? আর এই সংকীর্ণ ভাবনাকে ইন্ধন যোগাচ্ছে শিলিগুড়ির শিল্পচর্চার মূল শিকড় বা মাথাগুলো। যারা কখনোই কোনদিনও চায়নি তরুন প্রজন্ম এগিয়ে চলুক। অথচ শিলিগুড়ি শহরের তরুন শিল্পীদের একাংশ অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে এক শৈল্পীক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে কাজ করে চলেছে- এমন উদাহরণও রয়েছে। আর তাদের ব্রাত্য রেখে মুষ্টিমেয় এক দুইজন শিল্পী নিজেদের উত্তরবঙ্গের শিল্প চর্চার পীঠস্থান ভেবে আর্ট কলেজ তৈরীর জন্য অর্থহীন ভাবে নিজেদের প্রচারের মধ্যে রাখবার ব্যর্থ প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। আর এই ভাবনাই উত্তরবঙ্গে আর্ট তৈরীর পথে প্রধান বাধা।